বিদুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আন্দোলনে যে নেতৃত্ব দিয়েছিল, আওয়ামীলীগ আমলে যে নির্বাচন করেছিল সেই হবে বিএনপির প্রার্থী। আমি সিরাজগঞ্জকে শান্তির শহর দেখতে চাই। কিন্তু সিরাজগঞ্জ শহরে যদি শান্তি ভঙ্গ করা হয়, তাদেরকে ছেড়ে দেবো না। কিছুদিন আগে সিরাজগঞ্জে যে ন্যক্করজনক ঘটনা ঘটে গেছে। এটা বিএনপির কাছে সিরাজগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা ছিল না। আমি সিরাজগঞ্জের মানুষের কাছে জোড়হাত করি, যে কাণ্ডটা ঘটাইছে আমার কর্মীরা তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।কবে মেয়র ইলেকশন, আর সেই মেয়র ইলেকশন নিয়ে এপার-ওপার মারামারি করবা, আমি হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকবো, সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাবো এইটা সহ্য করা হবে না। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলি। যে আন্দোলনে শরীক ছিল যে নেতৃত্ব দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ আমলে যে নির্বাচন করেছিল সেই বিএনপির প্রার্থী হবে। কিন্তু এইডাকে কেন্দ্র করে যারা সিরাজগঞ্জকে অস্থিতিশিল করবে তাদের কোন রেহাই নেই। সেটা যদি আমার হাত হয়, সেই হাতও রাখবো না।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে- জেলা বিএনপি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এ সমাবেশে মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান টুকু তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের এক জনসভায় তিনি বিএনপি-জামায়াতের পরিবর্তে আওয়ামী-জামায়াত বলেছিলেন। সে সময় তার অনেক বন্ধু ও সহযোদ্ধা তার ওপর বিরক্ত হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জামায়াতের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ আগে ছাত্রলীগ, কেউ যুবলীগ আবার কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন বলে তিনি দেখেছেন। তিনি তাদের ‘গুপ্ত বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে টুকু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর সিরাজগঞ্জের বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অন্যায়ের পাল্লা ভারী হওয়ার পরই জুলাই আন্দোলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণ যতদিনের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে, ততদিন দায়িত্ব পালন করবো।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে টুকু বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করবে। বিএনপি নিজেরা কাউকে ধরে এনে শাস্তি দেবে না বলেও জানান তিনি।
উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন, বেলকুচি-চৌহালী আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম খান আলীম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, সিরাজগঞ্জ-১ কাজিপুর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক ভিপি আইনুল হক এবং উল্লাপাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিপি মোঃ শামীম খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট। এসময় সমাবেশে সিরাজগঞ্জ জেলা, শহর, থানা/ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ, এবং বিভিন্ন ইউনিটের হাজার হাজার নেতাকর্মী,সমর্থক সর্বসাধারণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।