রাজধানীর স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ব্যবস্থাপক কারাগারে

প্রকাশ: ৬ মাস আগে
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পল্টনের একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক পবিত্র কুমার বড়ুয়ার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তবে শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ রিমান্ড আবেদনের শুনানির তারিখ ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন ভোরে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামে স্কুলটির শিক্ষক ও অ্যাডমিন অফিসার পবিত্র কুমারকে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বলেন, রিমান্ড আবেদন করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই মো. নুর ইসলাম না আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক শুনানির নতুন তারিখ রাখেন।

আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পবিত্র কুমার। কয়েকজন সাংবাদিক তখন তার কাছে শিশু নির্যাতনের কারণ জানতে চান। জবাবে পবিত্র কুমার বলেন, “পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটা ঘটেছে। বিষয়টিকে ভাইরাল করার জন্য যেভাবে নির্যাতনের কথা বলা হচ্ছে, ওইভাবে তাকে মারা হয়নি।”

‘শারমিন একাডেমিতে’ ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় শিক্ষকের হাতে ৪ বছরের এক শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বৃহস্পতিবার শিশুটির মা পল্টন থানায় একটি মামলা করেন।

মামলায় স্কুলের পবিত্র বড়ুয়া এবং তার স্ত্রী শারমিন জামানকে আসামি করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে স্কুল বন্ধ করে আসামিরা পালিয়ে যান। পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান শুক্রবার সকালে বলেন, “ঘটনার পর মিরপুরে এক স্বজনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন পবিত্র কুমার বড়ুয়া। তবে শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি, তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

বুধবার থেকে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছে বলে মনে হচ্ছে।

সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি ‘স্ট্যাপলার’ হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে ‘স্ট্যাপল’ করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বার বার থামতে বলছিলেন।

একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১ টার দিকের। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন।

সূত্র: বিডিনিউজ।

  • আদালত
  • পবিত্র কুমার বড়ুয়া
  • শিশু শিক্ষার্থী