নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বিনায়েকপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তার বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুপার আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে লোক নিয়োগ, মাদ্রাসার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার ভবন নির্মানের কথা বলে, অডিট কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং উচ্চতর স্কেল অনুমোদনের জন্যও শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, মাদ্রাসার জমি লিজ দিয়ে প্রাপ্ত অর্থ যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, সুপারের অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। বর্তমানে মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষকই বিভিন্ন মামলার আসামি, যার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এক শিক্ষক বলেন, "মাদ্রাসাটিকে অনিয়মের সাগরে ডুবিয়ে সুপার নিজে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কোনো শিক্ষক তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।"
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুপার আব্দুস সামাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, "উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। বিনায়েকপুর দাখিল মাদ্রাসাও সেই তালিকায় রয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মাদ্রাসাটির শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রকাশক: জি.এম স্বপ্না | সম্পাদক: লিখন আহমেদ | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কারিকুল ইসলাম | বার্তা সম্পাদক: সুলতান মাহমুদ
www.swadeshbarta24.com