শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে এজাহারভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলিম গ্রেফতার কুষ্টিয়ার মিরপুরে মেছোবাঘ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ১১ হাজার অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণে মাহাবুব আলম হানিফ কুষ্টিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে চোলাইমদ সহ ০১ জন গ্রেফতার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড.আহসান উল্লাহ ফয়সাল মেহেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত আহত-৬ কুষ্টিয়ায় কর্মহীন মটর শ্রমিকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়ায় ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিয়ের দাবিতে কলেজ ছাত্রীর অনশন কবর থেকে উঠতে পারে কুমারখালীর গৃহবধূর লাশ, থানায় হত্যা মামলা দায়ের
কুষ্টিয়ায় ইজিবাইক গ্যারেজের উপর নির্মাণাধীন ৫তলা ভবন ধ্বসে পরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কুষ্টিয়ায় ইজিবাইক গ্যারেজের উপর নির্মাণাধীন ৫তলা ভবন ধ্বসে পরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক  : কুষ্টিয়া পৌরসভার পিটিআই রোডে একটি নির্মাণাধীন ৫তলা ভবনের গাঁথুনি ধ্বসে পরে পাশের একটি ইজিবাইক গ্যারেজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে হটাৎ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকায় ভবনের ৫তলার নতুন ইটের গাঁথুনি পাশের ইজিবাইক গ্যারেজের উপর ধ্বসে পরে।
এসময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন গ্যারেজে অবস্থানরত বেশকিছু চালক ও গ্যারেজের পাশে একটি টিনশেড বস্তির বেশ কিছু পরিবার। ৪টি ইজিবাইকসহ দুমরে-মুচরে গেছে গ্যারেজের বেশ কিছু অংশ।এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে, গ্যারেজটিতে আনুমানিক ১৫লক্ষ টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।
নির্মানাধীন ভবন মালিকদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪/৫ বছর পূর্বে মোখলেছুর রহমান, আশরাফ হোসেন, আসলাম হোসেন এবং আসাদ সরকার এখানে জমি কিনে ভবন নির্মাণ করা শুরু করেন। প্রথমদিকে পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করে পরিবার নিয়ে বসবাস করা শুরু করেন।
তারা আরো জানান- মোখলেছুর রহমান, আশরাফ হোসেন, আসলাম হোসেন এবং আসাদ সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় তারা কর্মস্থলে থাকেন, ছুটি পেলেই শুধুমাত্র কুষ্টিয়াতে আসেন। এখানে তাদের অবর্তমানে সকল দায়িত্ব পালন এবং পরিবারের প্রধান হিসাবে সকল কাজ সম্পাদন করেন তাদের সহধর্মিনীরা।
তারা বলেন- গত ৭/৮ মাস আগে তারা তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম তলার নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে সকল তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলার চারপাশ গাঁথুনির কাজও শেষ করেছেন। বর্তমানে পঞ্চম তলার চারপাশ গাঁথুনির কাজ চলমান। বৃহস্পতিবার তাদের পঞ্চম তলার চারপাশ গাঁথুনির একটি অংশ কাজ করা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে গাঁথুনি নরম থাকায় ধ্বসে পরেছে। নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশে নাইলনের জাল ও বাইরের দেয়ালে নিরাপত্তামূলক মাচা (কেনোপি) নেই কেন?? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে – তারা প্রথমে বেশ কিছুক্ষন নিশ্চুপ থেকে বলেন, ছিলো। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না থাকায় কিছুদিন আগে সরিয়ে ফেলেছি।
এদিকে স্থানীয় মানুষজন বলছে উল্টোটা। তারা বলেন, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম তলার নির্মাণের কাজ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশে নাইলনের জাল ও বাইরের দেয়ালে নিরাপত্তামূলক মাচা (কেনোপি) তারা দেখেননি। তাছাড়া সরকার নির্ধারিত লকডাউন না মেনে তারা নির্মাণ কাজ চালিয়ে গিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ গ্যারেজের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, গত ৪/৫ পূর্বে জমির মূল মালিক পেয়ারা বেগমের থেকে তিনি এই জমি ভাড়া নিয়ে গ্যারেজ বানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি গ্যারেজ নির্মাণের সকল কাজ অর্থের অভাবে শেষ করতে পারেন নি। তার গ্যারেজের টিনের ছাউনির উপর প্রতিনিয়ত পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ইটের টুকরা, সিমেন্ট, বালি পরে। তিনি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার নাইলনের জাল ও বাইরের দেয়ালে নিরাপত্তামূলক মাচা (কেনোপি) দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা পাত্তাই দেননি। তাছাড়া টিনশেড বস্তির পরিবারগুলোও তাদেরকে আমার মতো অনুরোধ করেছিল, তাদেরকেও তারা পাত্তা দেননি। যার কারণে আজ এই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাকে। তারপরও কারোর যে প্রাণহানি হয়নি এজন্য মহান আল্লাহপাক এর দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।
মঞ্জু আরো বলেন, অনেক টাকা ঋণ করে আমি এই গ্যারেজ নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। যার কারণে আমাকে অনেক কষ্ট করে দিনানিপাত করতে হচ্ছে। এর মধ্যে এই ভবন মালিকদের উদাসীনতায় আমার এতো বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। ভাগ্যিস টিনশেডের বাড়িগুলোর উপর পরেনি! তাহলে আজ ১৫-২০ জনের অকাল মৃত্যু দেখতে হতো। আমার গ্যারেজের উপর পরেই ৪টি ইজিবাইকের অবস্থা খুবই খারাপ। এই ইজিবাইকের মালিকদের আমাকে নতুন ইজিবাইক কিনে দিতে হবে। সেই সাথে আমার মূল স্থাপনারও ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এই ঘটনায় আমার আনুমানিক পনের লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। তবে সকাল হলে বলতে পারবো এক্সজেকট কত টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি খুব শীঘ্রই ক্ষতিপূরণ পেতে আইনের আশ্রয় নেব।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিএনবিসি) অনুসারে, নির্মাণাধীন ভবনের চারপাশ নাইলনের জাল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। নির্মাণসামগ্রী যেন পড়ে না যায়, সে জন্য বাইরের দেয়ালে নিরাপত্তামূলক মাচা (কেনোপি) রাখতে হবে। এ মাচা থাকবে নির্মাণকাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এ ছাড়া ভবনের চারপাশে নোটিশ বোর্ডে পর্যাপ্ত বিপদের চিহ্ন অথবা রঙিন আলো দিয়ে বিপদ চেনার ব্যবস্থা করতে হবে। বিধি অনুসারে, নিরাপত্তার এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে ভবনের মালিক বা নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিএনবিসি) ও পৌর আইন না মেনেই প্রতিনিয়ত কুষ্টিয়া শহরে তৈরী করা হচ্ছে বহুতল ভবন। পৌরসভাতে ভুক্তভোগীরা বার বার অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারণে পৌরসভার পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। যার কারণে ভুক্তভোগীরা সকল আইনবর্জিত কর্মকান্ড মেনে নিতে বাধ্য হয়।

এই সংবাদটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © swadeshbarta24.com
Design & Developed BY Anamul Haque Rasel