বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

ঘোষনা :
*** দেশের জনপ্রিয় বাংলা অনলাইন পত্রিকা স্বদেশ বার্তা ২৪ ডটকমে আপনাকে স্বাগতম।সবার আগে সর্বশেষ সংবাদ জানতে স্বদেশ বার্তা ২৪ ডটকমের সাথে থাকুন।*** স্বদেশ বার্তা ২৪ ডটকমের জন্য সারাদেশে জেলা ,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীগণ জীবন বৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ১কপি ছবি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ ই-মেইল পাঠাতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণও আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়াঃ ই-মেইল: news.swadeshbarta24@gmail.com প্রয়োজনে মোবাইলঃ ০১৭৮২৬৬৪০৬৬
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনিয়ম করলে কঠোর শাস্তি : প্রধানমন্ত্রী অবৈধ দখলের গড়াই নদীর চর, বেড়ে চলছে মাদক ব্যবসা কুষ্টিয়ায় লকডাউনে দুই দোকানে চুরি, চোরের আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা কুমারখালীতে লকডাউনে প্রশাসন কঠোর, সেনাবাহিনীর টহল জোরদার কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভা অনুষ্ঠিত গাংনীতে মোটরসাইকেলের চাপায় গৃহবধূ নিহত চালক আটক জয়পুরহাটে মদ সহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক কুমারখালীতে ইউপি সদস্যের ফলজ বাগান কাটলো দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশের প্রথম কুষ্টিয়ার জগতি রেলস্টেশনটি ভূমিখেকোদের দখলে কুমারখালীতে পাতিলে রাখা বৃষ্টির পানিতে শিশুর মৃত্যু কুমারখালীতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় জরিমানা প্রতিবন্ধী শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দিলেন শার্শার নির্বাহী অফিসার(UNO) কুষ্টিয়ায় কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে অপরিসীম দায়িত্ব পালন করছে প্রশাসন কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরো ১২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৩ জেলা পুলিশ কুষ্টিয়ার আয়োজনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

 খাল-বিলের দেশীয় প্রজাতির অর্ধশত মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন

 খাল-বিলের দেশীয় প্রজাতির অর্ধশত মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় অর্ধশত প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন। নড়াইলের খাল-বিলের দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস খালে বিলে জলাশয়ে চরপাটা, বাঁধ, ভেসাল জাল, কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে। নড়াইলের খালে বিলে দেশীয় মাছ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। নড়াইলে মৎস্যজীবী দেশজ মাছ রক্ষার্থে নড়াইলের অভিজ্ঞমহল।আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় রিপোটে, সেই সঙ্গে প্রকৃত মৎস্যজীবীরাও এক শ্রেণীর লোকজন খালে বা বিলে চরপাটা, ভেসাল জাল এবং কারেন্ট জালের সাহায্যে মাছের পোনা, বিশেষ করে মাছ বড় হবার আগেই ছোট অবস্থায় শিকার করে বিক্রি অথবা খেয়ে ফেলছে। এতে এলাকায় মাছের বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে না। আর তাই দিন দিন এলাকা থেকে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হবার পথে। অথচ খাল-বিলে ভরা নড়াইলের জেলা উপজেলায় এক সময় দেশীয় মাছের ভান্ডার ছিল। কিন্তু কারেন্ট জাল, ভেসাল জালসহ অন্যান্য অবৈধ উপায়ে দেশীয় মাছের বংশ বৃদ্ধি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আর এ কারণে নড়াইলের বাজারে দেশীয় মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
দেশীয় মাছের স্থলে এখন পুকুরে বা ঘেরে চাষ করা বিভিন্ন মাছে বাজার ভরে গেছে। মৎস্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত নড়াইলের বিভিন্ন বিল থেকে দেশীয় মাছ প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে কই, শিং, সরপুটি, বোয়ালসহ নানা জাতীয় দেশীয় মাছ। বিল রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য খাল ও পুকুর। যেখানে প্রাকৃতিক ভাবেই জন্ম নেয় দেশীয় মাছ। স্বাদের কারণে এখানকার উৎপাদিত দেশীয় মাছের সুনাম রয়েছে সর্বত্র। নড়াইলের এ জেলায় উৎপাদিত মাছ জেলার চাহিদা মিটিয়েও ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হতো। জেলার অধিবাসীদের মধ্যে বড় একটা অংশ মৎস্যজীবী। জেলেরা বিগত কয়েক বছর দেশীয় মাছ তেমন একটা পাচ্ছেন না। জেলার, বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় মাছের প্রজনন এলাকা ও তাদের জন্য অভায়শ্রম গড়ে তোলার জন্য। দেশীয় মাছের প্রজননের ব্যবস্থা করা। কয়েক বছর আগে জেলার বিভিন্ন স্থানে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা রক্ষার্থে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজন।
মাছের পোনা যাতে ভেসাল জাল, চরপাটা কিংবা কারেন্ট জাল দিয়ে শিকার করে দেশীয় মাছের বংশ বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা। খালে বিলে মৎস্যজীবীরা অবলীলায় মাছ ধরতে পারবে। কিন্তু কেউ যাতে মাছের ছোট পোনা বড় হবার আগেই শিকার করতে না পারে সে জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নড়াইলের সর্বত্র ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা। সবাইকে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে সচেতন করার কাজও চলছে। তিনি আরও বলেন, সবাই যদি সচেতন হয় তাহলে এ এলাকায় প্রচুর দেশজ মাছ পাওয়া সম্ভব হবে। নড়াইলের এলাকায় দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে আরও বেশী পরিমাণ মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলার প্রতি জোর দিয়েছেন জেলার মৎস্যজীবী ও মৎস্য সংশ্লিষ্টরা এখন আর পুকুর ভরা মাছ নেই। “মাছে ভাতে বাঙ্গালী” এ প্রবাদটি এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম বিকল্প হিসাবে শুটকি ও সামুদ্রিক মাছের আমদানি।
জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসচেতনতা, অবাধে লবণ পানি তুলে বাগদা চিংড়ি চাষ, ফসলের ক্ষেতে দেশীয় অর্ধশত প্রজাতিরক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের যথেচ্ছা ব্যবহার এবং মিঠাপানির অভাবে মৎসখনি খ্যাত দক্ষিণা লে অর্ধশত প্রজাতির মিঠাপানির দেশীয় মাছের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। সুস্বাদু দেশীয় মাছ এখন আর তেমন মিলছে না। বাজারে যদি বিদেশী ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ না থাকতো তাহলে আমিষের চাহিদা মিটানো সম্ভবপর ছিলোনা।দক্ষিণ-পশ্চিমা লের ২১ জেলার শহর বন্দর গ্রামে গঞ্জে সর্বত্রই দেশীয় মাছের চরম সংকট। যা পাওয়া যায় তার অগ্নিমূল্য। বিগত দিনে সরকারের উদাসীনতা, মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবসম্মত সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহনের অভাব এবং যে সকল প্রকল্প ও কর্মকান্ড হাতে নেয়া হয়েছিল তার যথাযত বাস্তবায়ন না করায় এ সেক্টরটি “শিকেয়” উঠেছে। অতিব গুরুত্বপূর্ন এবং অত্যাবাশকীয় সম্ভবনাময় এ খাতটি এখন চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মৎস্য অধিদপ্তর এবং কয়েকটি এনজিও এসব বিষয়ে কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে তাও যৎ সামান্য।
তাছাড়া যে সকল প্রচলিত আইন ও ধারা রয়েছে তার বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। জন সচেতনতা তৈরীতে দায়িত্বশীলরা এগিয়ে আসছে না। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে কয়েক দশক পুর্বেও এ অ লে আড়াইশত প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতি এখন চোখে পড়ে না। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমের সময় নদী-খাল-বিল থেকে কারেন্ট জালের মাধ্যমে ব্যাপকহারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে দেশীয় মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কালের গর্ভে মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। মৎস অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুই দশক পূর্বেও বাগেরহাটের শরনখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মংলার ,রামপাল, খুলনার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা ও ফুলতলা এবং খুলনা সন্নিকটস্থ উপকূলীয় অ লে প্রায় আড়াইশ’ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত।
যার মধ্যে শোল, টাকি, কৈ, গজাল, টেংরা, চিতল, শিং, খয়রা, বাটা, পাইশ্যা, কালিবাউশ, বাইল্যা, কাজলি, সরপুটি, পাবদা, খৈলশা, ডগরি, জাবা, ভোলা, বাগাড়, বাশপাতা, ভাঙ্গান, কাইলে, সরপুটি, গোদা চিংড়িসহ অর্ধশত প্রজাতির মিঠাপানির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এ সকল মাছ স্বাদে ও পুষ্টি গুনে ছিল ভরপুর। এ অ লের গ্রামে-গঞ্জের কয়েকশ’ হাওড় বাওড়, বিল, খাল নদী থেকে এসকল মাছ সংগ্রহ করতো জেলে সম্প্রদায়। সারা বছর তারা মৎস শিকার করে নিজ পরিবারের চাহিদাপূরণ সহ জীবিকা নির্বাহ করত। শুষ্ক মৌসুমে খাল বিল হাওরের পানি কমে গেলে চলত মাছ ধরার উৎসব ধরা শুরু হতো ।

এই সংবাদটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Design & Developed BY Anamul Haque Rasel