বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
এই দেশ কারও বাবার সম্পত্তি নয় : ইশরাক অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালো সামাজিক স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ইয়থ ডেভলপমেন্ট ফোরাম কুষ্টিয়ায় কতৃপক্ষ ঘুমিয়ে, জিকে ক্যানালের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নির্মান হচ্ছে দোকান ‘স্বচ্ছ ও ভালো নিয়ত’ নিয়ে এসেছেন কুষ্টিয়ার নতুন এসপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা, গোটা দেশ অবরোধের হুমকি কুমারখালীর বাঁশগ্রাম কামিল মাদরাসায় কামিল ও ফাযিল পরীক্ষায় অভাবনীয় সফলতা অর্জন কুষ্টিয়ায় দিনে দুপুরে পরের জমির গাছ কেটে নিলো প্রভাবশালীরা ‘আবিষ্কারের নেশায় তিনবার সরকারি চাকরি ছেড়েছি’ কুষ্টিয়ায় হাইওয়ে থানা পুলিশের সফল অভিযান: বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ আটক -১ বাঁশ হাতে পুলিশের দিকে তেড়ে যাওয়ার ছবি ভাইরাল
সেনা অভ্যুত্থান: কোন পথে মিয়ানমার

সেনা অভ্যুত্থান: কোন পথে মিয়ানমার

২০১৫ সালে থেকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারা। সেই সরকারের মেয়াদ শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বরের অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নির্বাচন। বিশাল ব্যবধানে জয় পায় সু চির দল। মিয়ানমার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩২২টি আসন লাগে। সেখানে এনএলডি পায় ৩৪৬টি আসন। কিন্তু সেনাবাহিনী সমর্থিত দল, ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, ইউএসডিপি সুচির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলে এবং ভোটের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পুনরায় নির্বাচনের দাবি তোলে তারা। শুরু হয় মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ও ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন।  ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় নির্বাচনের পরেই দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের গুঞ্জন ছড়ায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি সেই গুঞ্জনই সতিই হলো। গত ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় সু চির দল ক্ষমতা গ্রহণের কথা ছিল। আর সেদিনই তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন সু চিসহ শীর্ষপদস্থ কর্মকর্তারা। এরপরই এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে মিয়ানমারে। এই পরিস্থিতিতে কোন পথে হাঁটছে মিয়ানমার? সেটাই এখন দেখার বিষয়।
কোন পথে হাঁটছে মিয়ানমার?
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হচ্ছে-কোন পথে এখন মিয়ানমার? আপাতত এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর কী হবে? ২০২২ সালে মিয়ানমার কি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাবে? অং সান সু চির বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল চার্জ আনা হয়েছে। বিদেশ থেকে অবৈধভাবে ওয়াকিটকি আনার জন্য এই ক্রিমিনাল চার্জ। নিশ্চিত করেই বলতে পারি, তিনি অভিযুক্ত হবেন এবং তার জেল হবে! আর এ কারণে পরবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসাবে বিবেচিত হবেন না। সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিক্ষোভ চলছে মিয়ানমারে। কিন্তু এই প্রতিবাদ কি ১৯৮৮-১৯৮৯ সালের মতো গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে পারবে? জাতিসংঘ সামরিক অভ্যুত্থানকে আইনের শাসনের পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছে এবং বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন আভাস দিয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার। কিন্তু এই ‘ব্যবস্থা’ কি আদৌ নেওয়া হবে কিংবা সামরিক জান্তা কি সিভিলিয়ানদের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে? যে সামরিক বাহিনী অং সান সু চিকে সামনে রেখে তাদের স্বার্থ আদায় করে নিয়ে আসছিল এতদিন, তারা কেন সরাসরি ক্ষমতা নিল, এ প্রশ্ন অনেকের। বিশ্ব মিডিয়ায় এ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পেছনে অনেক ‘থিওরি’ থাকলেও এটা বাস্তব যে, অং সান সু চি হিসাবে ভুল করেছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীকে বিশ্বাস করে ধারণা করেছিলেন, এবারও সেনাবাহিনী তাকে সমর্থন দেবে। কিন্তু কর্পোরেট স্বার্থ যেখানে বেশি, সেখানে সেনাপ্রধানের উচ্চাভিলাষ, তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো এবং প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার মনোনয়নের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে প্ররোচিত করে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত করতে। তবে এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। মিয়ানমারের সমাজ যে গণতন্ত্রের জন্য উপযুক্ত নয়, আবারও তা প্রমাণিত হলো। তাহলে পরিস্থিতি এখন কোন দিকে যাচ্ছে? এক বছরের জন্য সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সয়েকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মিন্ট সয়ে একজন সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হয়ে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এখন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন। এর অর্থ হচ্ছে, সেনাবাহিনী সর্বত্র তার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায়। আর সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটা ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা পাওয়া যায়। জেনারেল মিন অং হ্লাইং হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। তিনি একটি দল গঠন করতে পারেন, অথবা সেনাসমর্থিত দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’র নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারেন। নভেম্বরের (২০২০) নির্বাচনে এ দলটি খুব ভালো করেনি। ‘হাউজ অব ন্যাশনালিটিসে’ (আসন ২২৪) দলটি পেয়েছিল ৭ আসন (এনএলডি পেয়েছিল ১৩৮)। সেনাবাহিনীর মনোনয়ন ছিল ৫৬টি আসন। আর ‘হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে’ দলটির আসন ছিল ৪৪০-এর মধ্যে ২৬ (এনএলডির ২৫৮, সেনাবাহিনী মনোনীত ১১০)। ফলে নির্বাচনী ফলাফলের ব্যাপারে দলটির একটি অভিযোগ ছিল। এখন জেনারেল মিন অং হ্লাইং তার ক্ষমতায় থাকার জন্য এ দলটিকে ব্যবহার করতে পারেন! জুলাই মাসে (২০২১) তিনি অবসরে যাবেন। এরপর পূর্ণ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০২২ সালে তিনি নির্বাচন দিতে পারেন। ইতোমধ্যে সেনা সমর্থন নিয়ে যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে (২০০৮) তাতে অং সান সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ রুদ্ধ। এখন এনএলডিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার উদ্যোগ নিতে পারেন জেনারেল হ্লাইং। কেননা একমাত্র অং সান সু চিই তাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখেন। সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে সু চি কর্মীদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সেনাবাহিনীবিরোধী কোনো বড় গণঅসন্তোষ সেখানে গড়ে উঠবে বলে মনে হয় না।
সামরিক অভ্যুত্থানের এক সপ্তাহ পর বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের করার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এ বিক্ষোভের সঙ্গে ১৯৮৮-১৯৮৯ সালের গণবিক্ষোভের তুলনা করা যাবে না। নে উইন ক্ষমতা ছেড়ে দিলে ১৯৮১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন জেনারেল উ সান ইউ। ১৯৮৮ সালের গণবিক্ষোভে উ সান ইউ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এবং তার স্থলাভিষিক্ত জেনারেল সেন লেনও বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। তার পদত্যাগ একজন সিভিলিয়ান মং মংকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু তিনিও থাকতে পারেননি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে সরানো খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না। তবে অং সান সু চির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যে শেষ হয়ে গেল, তা বোধহয় বলা যায়। আগামীতে একটি বেসামরিক সরকার আসবে। কিন্তু তাতে সু চির কোনো জায়গা হবে না।
মোট কথা, মিয়ানমার আবারও পুরনো বৃত্তে ফিরে গেল। ১৯৪৭ সালের জানুয়ারিতে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনী দেশটি শাসন করেছে। ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন প্রথম রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। ১৯৮১ সালে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন জেনারেল উ সান ইউ। নে উইন ক্ষমতা গ্রহণ করে গঠন করেছিলেন বার্মিজ সোশ্যালিস্ট পার্টি। উ সান ইউ দায়িত্ব নিলেও পর্দার অন্তরালে ক্ষমতা পরিচালনা করতেন নে উইন। ১৯৮৮ সালে বড় ধরনের ছাত্র বিক্ষোভে জেনারেল উ সান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নতুন প্রেসিডেন্ট হন জেনারেল সেন লেন। কিন্তু ছাত্র বিক্ষোভের মুখে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এরপর একজন সিভিলিয়ান মং মং ক্ষমতা নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও তাতে কাজ হয়নি; আরেক জেনারেল সু মং (সেপ্টেম্বর ১৯৮৮) ক্ষমতা নেন। একই পথে ১৯৯২ সালের মে মাসে আরেক জেনারেল থান শুই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। মাঝখানে ১৯৯০ সালে একটি নির্বাচন হয়েছিল এবং তাতে এনএলডি বিজয়ী হয়েছিল। কিন্তু সামরিক জান্তা নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৮৯ সালে অং সান সু চিকে অন্তরীণ করা হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে তিনি অন্তরিন অবস্থা থেকে ‘মুক্তি’ পেলেও নজরদারিতে ছিলেন। জেনারেল থান শুই ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গঠন করেছিলেন ‘স্টেট পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’ (এসপিডিসি)। তিনি ছিলেন এর চেয়ারম্যান। তার খুব বিশ্বস্ত ছিলেন জেনারেল খিন নাইয়ান্ট, যিনি মূল ক্ষমতা পরিচালনা করতেন। ২০০৪ সালে তাকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল সো উইন। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী একটি সংবিধান প্রণয়ন করে, যেখানে সেনাবাহিনীর জন্য সংসদে শতকরা ২৫ ভাগ আসন রিজার্ভ রাখা হয়। ২০১০ সালে সেখানে নির্বাচন হয় এবং সেনাসমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় (এনএলডি নির্বাচনে অংশ নেয়নি)। ইতোমধ্যে সেখানে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল থাইন সেইন। পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে এনএলডি বিজয়ী হয়। এটা যেন এক ধরনের ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা। টেবিলের চারপাশে ঘুরছেন জেনারেলরা। একজন বসছেন, আর যিনি বসতে পারছেন না তিনি ‘বিদায়’ নিচ্ছেন! জেনারেলদের মাঝে খেলা হচ্ছে। প্রতীকী অর্থে এখানে ‘টেবিলটা’ হচ্ছে রাষ্ট্র, আর রাষ্ট্রকে ঘিরে খেলায় মেতে ওঠেন শীর্ষ জেনারেলরা। যিনি ‘মিউজিক্যাল চেয়ারে’ বসতে পারলেন, তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেন। অতীতে জেনারেল উ সান, জেনারেল সেন লেন ‘বসতে’ পারেননি। বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু নে উইন থেকে শুরু করে জেনারেল থান শুই কিংবা জেনারেল থাইন সেইন ‘মিউজিক্যাল চেয়ারে’র খেলায় জিতেছিলেন এবং ক্ষমতায় ছিলেন দীর্ঘদিন। আর এখন জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের পালা। জেনারেল হ্লাইংয়ের পদবি আবার সিনিয়র জেনারেল (অর্থাৎ পশ্চিমা সমাজের ফিল্ড মার্শালের সমমানের)। সেনাবাহিনীতে তার পরের অবস্থান ভাইস সিনিয়র জেনারেল সো উইনের। আরেক ভাইস সিনিয়র জেনারেল মাউং আইর খোঁজ পাওয়া যায়। মিয়ানমারে ৬ থেকে ৭ জন শীর্ষ জেনারেল ও সিনিয়র জেনারেল ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক কমান্ডাররাও ক্ষমতা ভোগ করছেন। এসব জেনারেল মিয়ানমারের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের স্ত্রীরা মিয়ানমারের বিখ্যাত ‘জেম’ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা সবাই মিলিয়নিয়ার। বর্তমান সেনাশাসক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বিপুল সম্পদের মালিক। তারা এত ক্ষমতাবান যে অং সান সু চি ক্ষমতায় থেকেও তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। আরও একটা কথা- মিয়ানমারের জাতীয় বাজেটের চার ভাগের এক ভাগ বরাদ্দ থাকে সেনাবাহিনীর জন্য। এর পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। এ বাজেট বরাদ্দের কারণেই সেনাবাহিনী ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। তাই মিয়ানমারের সমাজব্যবস্থা থেকে সেনাবাহিনীর প্রভাবকে মুছে ফেলা যাবে না।
মজার ব্যাপার হলো, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র চীনের মনোভাবের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সেনা অভ্যুত্থানের পরপরই চীন এক ধরনের সমঝোতার কথা বলেছিল। শেষ পর্যন্ত মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে যে বিবৃতি দেওয়া হয়, তাতে চীন সম্মতি জানিয়েছে। তবে চীন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অবস্থানে যাবে না। বিশেষ করে যে কোনো ধরনের অবরোধ এর ব্যাপারে চীনের আপত্তি থাকবে। মিয়ানমারে বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে চীনের। এ বিনিয়োগকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে না চীন। চীন ব্যবসা বোঝে ও ব্যবসা করে। তাদের স্বার্থের কারণেই তারা মিয়ানমারে যে কোনো সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলবে।
কেমন আছে মিয়ানমারবাসী?
সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও। দেশটির সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াঙ্গুনের বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশটির সব ব্যাংকও। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এছাড়াও ওই শহরের আশেপাশের এলাকাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছে জান্তা বিরোধীরা। ফলে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে সেনাবাহিনী। সব মিলিয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে মিয়ানমারে।

হুমকির মুখে পর্যটন খাত
সেনা অভ্যুত্থানে মিয়ানমারে আবারো দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ অবস্থায় দেশটির পর্যটন খাতে অভ্যুত্থানের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাত দক্ষিন এশিয়ার দেশ মিয়ানমার। দেশটির একদিকে যেমন রয়েছে দিগন্তজোড়া বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত, অন্যদিকে আছে ঘন জঙ্গল আর সুউচ্চ পাহাড়রাশি। বৌদ্ধপ্রধান দেশটি সারা বিশ্বে প্রাচীন সব প্যাগোডার জন্যও বিখ্যাত। পাশাপাশি দেশটিতে রয়েছে চোখজুড়ানো সব হ্রদ। আর মিয়ানমারের রেইনফরেস্টকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনের একটি। এসবের টানেই ভ্রমণপিপাসুদের শীর্ষস্থানীয় গন্তব্যের তালিকায় মিয়ানমারের নাম উঠে আসেই। তবে স্বাধীনতার তিয়াত্তর বছরেও দেশটি সামরিক শৃঙ্খলমুক্ত হতে পারেনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা জেনারেল অং সান এর কন্যা সু চির হাত ধরে মাত্র কয়েক বছরের জন্য গণতন্ত্র আসলেও, তা স্থায়ী হয়নি। গেল  ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আবারো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে সামরিক জান্তা। দশকের পর দশক স্থায়ী সামরিক শাসনের প্রভাব পড়েছে মিয়ানমারের পর্যটন শিল্পেও। আকর্ষণীয় সব গন্তব্যের জন্য খ্যাতি থাকলেও, সামরিক সরকারের নানা বিধিনিষেধের কারণে প্রত্যাশিত পর্যায়ে পর্যটক আসেন। এরমধ্যে গেল বছরের শুরু থেকেই অন্যান্য দেশের মত করোনার থাবায় থমকে যায় পর্যটন ব্যবসা। দেশটির পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠনের মতে, মহামারিকালে এই খাত সংশ্লিষ্ট মোট ৮ লাখ কর্মীর মধ্যে চাকরিচ্যুত হয়েছেন সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনায় ২০১৯ সালে মিয়ানমারে পর্যটকের আগমন কমে গেছে ৭৫ শতাংশ। গেল ডিসেম্বরে করোনার বিধিনিষেধ কিছুটা কমলেও, পর্যটন খাতকে তা খুব একটা চাঙ্গা করতে পারেনি। এ অবস্থায় সম্প্রতি সেনা অভ্যুত্থানের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে কতোটা সহায়ক হবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা: 
মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ শাসক দলের শীর্ষ নেতারা দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মিয়ানমারের এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। এ ঘটনায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেছেন, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন অথবা দেশটির গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টার বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরিস পেইন বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আবারো দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের আটকের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া সরকার উদ্বিগ্ন। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সিঙ্গাপুর। আমরা নিবিড়ভাবে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সব পক্ষ ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ ফলাফলের জন্য কাজ করবে বলে আশা করছি। এ ছাড়া অং সান সু চিসহ মিয়ানমারে অবৈধভাবে আটক সবার তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়ার পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস। ভারতের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা মিয়ানমারের বিষয়টিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবশ্যই বহাল রাখতে হবে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান এবং অং সান সুচিসহ বেসামরিক নেতাদের আটকের ঘটনায় জাপানে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকেরা রাজধানী টোকিওতে বিক্ষোভ করছেন। এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংকটের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) সদস্যরা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জারি করা জরুরি অবস্থা এবং স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি ইউ উইন মিন্তসহ অন্য নেতাদের নির্বিচারে আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক ‘সকল বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার’ আহ্বান জানান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
ফের রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ 
প্রায় ৩ বছর আগে মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে ‘হত্যা ও ধর্ষণ’ চালিয়েছিল এবং রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়িয়ে দিয়েছিল। জাতিসংঘ, রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল, ইউনাইটেড স্টেটস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং আরও অনেকেই এ বিষয়টি দেখিয়েছে। সেসময় ৮ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা ‘সহিংস গণহত্যা’ থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসেছিল এবং বাংলাদেশ এখন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে জায়গা দিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশ একাধিক উপায়ে- দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় এবং বিচার ব্যবস্থা মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সম্পর্কিত একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করে ঢাকা-নেপিদো, যা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হয়েছিল। মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থার অভাবের কারণে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে দুবার প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর আবার সেনা অভ্যুত্থানের কারণে নতুন ভাবনাই ফেলেছে বাংলাদেশকে। যদিও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তবু টেনশনে ঢাকা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকার মনোভাব
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ থমকে গেছে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং চীনের মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ত্রিপক্ষীয় একটি বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সেনা সরকার কী অবস্থান নেবে সে বিষয়ে সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে- এমনটাই আশা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছিল ২০১৮ সালে জানুয়ারিতে। প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে দ্বিপাক্ষিক সেই চুক্তিকে মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারেই বাংলাদেশ চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, ‘আমরাতো সরকার টু সরকারের অ্যাগ্রিমেন্ট (চুক্তি) হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বিশেষে অ্যাগ্রিমেন্ট হয়নি। সুতরাং দ্য প্রসেস শুড কন্টিনিউ (তাই এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা উচিত)।’‘আর আমাদের ইতিহাস আছে- আগে যখন মিয়ানমারে সামরিক সরকার ছিল, সেটা ৭৮ সাল বা ৯২ সাল বলেন, সামরিক সরকারের সময়ই প্রত্যাবাসনটা হয়েছে। সো হোয়াই নট দিজ টাইম?’ যোগ করেন মোমেন। তিনি আরও বলেন, ‘তারা রিপ্যাট্রিয়েশন (প্রত্যাবাসন) যদি করে, তাহলে তাদের জন্য একটা সুযোগ যে তারা অন্যদের সঙ্গে আছে। সো দে শুড টেক দ্যাট অ্যাডভান্টেজ (তাই তাদের এই সুযোগ নেওয়া উচিত)। আমরা বলেছি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে-আমরা সেটা আশা করি।’ দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তিন বছরেও অং সান সু চি’র সরকার তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি সামলাতে চীনের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আমরা সবার কাছে অ্যাপ্রোচ করেছি। আমরা মিয়ানমারের কাছে অ্যাপ্রোচ করেছি। সব রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতেও আমরা গেছি। চীন এ ব্যাপারে কিছু অগ্রসর হয়ে এসেছে। জাপানও এগিয়ে এসেছিল। তবে চীন অনেক অগ্রসর হয়েছে।’মোমেন বলেন, ‘আমরা চীনকে আস্থার মধ্যে রেখেছি। আমাদের পশ্চিমা অনেক বন্ধু রাষ্ট্রের একটা উৎকণ্ঠা যে এখন হয়তো আরও রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে আসতে পারে। আমরা বর্ডার সিকিউর করে রেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘আগে যারা এসেছিল, আমাদের জনগণই তাদের গ্রহণ করেছিল। এখন আমাদের জনগণ আর তাদের গ্রহণ করার মুড়ে নাই। এখন এই ধরনের দুর্ঘটনা হলে অন্যরা নিয়ে যাক। আমরা নিতে রাজি নই।’
মিয়ানমারের পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করা সহসাই সম্ভব নয় সেটা নিশ্চিত বলা যায়। এখন মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে চীনের ওপরই নির্ভর করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৫ ফেব্রয়ারি ২০২১ প্রকাশিত)

এই সংবাদটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © swadeshbarta24.com
Design & Developed BY Anamul Haque Rasel