সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত একটি পরিবার বিচারের আশায় দিনগুনে

কুষ্টিয়ায় প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত একটি পরিবার বিচারের আশায় দিনগুনে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের মুন্সী পাড়ায় এক প্রবাসীর পরিবার কে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে জমি টাকাসহ সব কিছু হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুরুষ অভিভাবক শুন্য ঐ পরিবারটি সব হারিয়ে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে। উল্টো প্রতারকের মিথ্যা মামলায় দিশেহারা পরিবারটি।
বিচার পেতে বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দেওয়ার পরও ফল মেলেনি। সামনে নির্বাচন কোন পক্ষের বিরাগভাজন হতে চাচ্ছে না, তাই জনপ্রতিনিধিরাও কারও সালিশ করছে না বরঞ্চ এড়িয়ে চলছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে মামলা, উকিল নোটিশ পাঠালে এবং বেশী বাড়াবাড়ি না করতে পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
জানাগেছে, ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়ন মুন্সি পাড়ার খবিরউদ্দিনের ছেলে মামুন মুন্সী স্থানীয় ভাবে সুদের কারবারের সাথে জড়িত।
প্রতারণার শিকার একই গ্রামের প্রবাসী জহুরুলের স্ত্রী জেসমিন খাতুনের দুই দেবর রফিকুল ও রবিউল কে মামুন মুন্সী চড়া সুদে ১লাখ ২৫হাজার টাকা দেয় এক বছরের চুক্তির ভিত্তিতে ২লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে এমন মর্মে।
নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যার্থ হলে দুই ভাইয়ের জমি লিখে নেয় মামুন মুন্সী।
এখানেই শেষ নয়, ঐ জমির সাথে জেসমিনের শাশুড়ির আধা কাঠা জমিও কায়দা করে লিখে নেন একই সাথে। পরিবারে পুরুষ অভিভাবক ও জানা বোঝার মানুষ না থাকায় পতারণা করতে কোন বেগ পেতে হয়নি মামুন মুন্সীর। এই ঘটনা ধরা পড়ে বাড়িসহ জমি দখল করার সময়ে।
এর কিছু দিন পর এই জমি বিক্রি করবে এমন কথা জেসমিন খাতুনের কাছে জানান মামুন মুন্সী।
জেসমিন প্রথমে জমি ক্রয় করতে অস্বীকার করে। সে জানায়, এত টাকা তার কাছে নেই।
ধূর্ত মামুন মুন্সী পরামর্শ দেয় কয়েকটি সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ার ব্যাবস্থা করে দিবে সে জামিনদার হবে বলেও জানায়, জেসমিন জানায় স্বামী জহুরুল’র সাথে আলাপ করে জানাবো। প্রবাসী জহরুল তার ভাইদের কথা ভেবে তারা রাজি হয়।
কথা মাফিক ৫টি সমিতি থেকে ঋণ নেয় জেসমিন। সাক্ষী জামিনদার হয় মামুন মুন্সী। এরপর টাকা উত্তোলনের পর পরই ধূর্ত মামুন মুন্সী জেসমিন কে বলে টাকা আমার আজকেই দরকার। কিছু টাকা দাও, জমি সামনের সপ্তাহের মধ্যে রেজিষ্ট্রী করে দিবো।
জমি রেজিস্ট্রী করার দিন বাকি টাকা নিবো। এর কিছু দিন পর রেজিষ্ট্রী করতে এসে টাকা হাতে নিয়ে বলে আজ রেজিস্ট্রী হবে না, কয়দিন পর।
এরপরই সম্পুর্ন ভোল পাল্টে ফেলে মামুন মুন্সী। এখানেই শেষ নয়। পুরুষ বিহীন পরিবারে মামুন মুন্সী জেসমিন কে টাকা ফেরত দিবে এর জন্য চেক বইয়ের পাতা দরকার। এমন প্রতারণার ফাঁদ সাজিয়ে এবারে একটি খালি চেক বইয়ের পাতাও হাতিয়ে নেয়।
এর কিছু দিন পরেই জমি রেজিস্ট্রী করে দেওয়ার জন্যে জেসমিন মামুন কে চাপাচাপি করলে,
মামুন মুন্সী বলেন, কিসের জমি বিক্রি। একথা শুনে জেসমিন টাকা ফেরত চাইলে, মামুন মুন্সী জেসমিন কে হুমকি ধামকি দিয়ে বলে কোন টাকা পয়সা আমি নেয়নি।
এরপরে মামুন আদালতে মামলা দায়ের করেছে এই মর্মে জেসমিনসহ ছেলে রাব্বি ও মেয়ে সুখী এবং ননদ নারগিস কে নিয়ে মামুনের বাড়িতে হামলা ভাংচুর করেছে। সেই সাথে কয়েক দিন পর সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পাবে এমন দাবী করে টাকা পরিশোধের জন্য উল্টো জেসমিন কে চাপ দেয়। না চেকের মামলা করে দিবো বলেও হুমকি দেয়। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে জেসমিন’র নামে।
তবে ঘটনাটি সম্পুর্ন মিথ্যা ও সাজানো বলে বলে জানান এলাকাবাসী।
তারা জানায় মামুন মুন্সী এর আগেও এধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়।
জেসমিনের স্বামী জহুরুল প্রবাসে থাকে অল্প বেতন পায় যা সংসার খরচে সবটুকু ব্যায় হয়ে যায়।
এমতাবস্থায় এখন এ অসহায় পরিবারটি সব হারিয়ে দিশেহারা। এরই মধ্যে এনজিও গুলি কিস্তি পরিশোধের তাগাদা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে।
সমাজে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও পায়নি।
এব্যাপারে জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ঐ গ্রামে গিয়ে জেসমিনদের পরিবারের সাথে প্রতারণা করার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায় বিচার চেয়েছে এলাকার সচেতন মানুষের কাছে ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।
তারা প্রতিকার চেয়ে মামুন মুন্সীর বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এবং আদালতেও একটি মামলা দায়ের করেছে মামুন মুন্সীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে।
এখন ন্যায় বিচারের আশায় চেয়ে আছে। কিন্তু কিস্তিটা কাল হয়ে দাড়িয়েছে টাকা শোধ করার কোন অবলম্বন নেই এই পরিবারটির উল্টো সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে মামুন মুন্সী। এ অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য এলাকার নিরীহ গোছের কিছু মানুষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
এবিষয়ে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে মামুন মুন্সীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন। মামুন বলেন আমিই তাদের কাছে টাকা পাই। চেক কেস করেছি। আমার পাওনা সাড়ে পাঁচ লাখ টাকাও তাদের দিতে হবে। টাকা না দেওওয়ার জন্য তারা এসব করছে। তবে মামুন মুন্সী অনেক কথাই এড়িয়ে যান এবং কথা বারবার পরিবর্তন করতে থাকে।

এই সংবাদটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © swadeshbarta24.com
Design & Developed BY Anamul Haque Rasel