সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে হাসপাতালের জায়গা দখল করে স্থানীয় বিএনপি আওয়ামীলীগের ভাগাভাগি

কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে হাসপাতালের জায়গা দখল করে স্থানীয় বিএনপি আওয়ামীলীগের ভাগাভাগি

কুষ্টিয়া, ৬ মার্চ, ২০২১।। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রেল যোগাযোগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশন। বৃটিশ শাসনামলে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর কলকাতা থেকে পোড়াদহ হয়ে কুষ্টিয়ার জাগতি পর্যন্ত প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয়। পরে ১৮৭৮ সালের মধ্যে পোড়াদহ থেকে ভেড়ামারা রেলপথ চালু হলে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশনে পরিণত হয়। সেখানে রেলওয়ে হাসপাতালা, কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোয়ার্টার, গোরস্থান, ধানি জমি, ডোবা প্রায় সবই এখন ভূমি দস্যুদের দখলে চলে গেছে। পোড়াদহ রেলওয়ে হাসপাতাল এখন আর কোন অস্তিত্ব নেই। সেখানে ভূমি দস্যুরা নির্মাণ করেছেন একতলা পাকা মার্কেট। সেই মার্কেটে ৩৪ টা দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। সেই দোকান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করেছেন একটি প্রভাবশালী মহল। রেলওয়ে হাসপাতালের জায়গায় কিভাবে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে এবিষয়ে কিছুই জানেন না বাংলাদেশ রেলওয়ে পোড়াদহের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ এর ফিল্ড কানুনগো রাজিবুজ্জামান।
এই জায়গা দখলের মুল কারিগর রেলওয়ে ঠিকাদার আশরাফুল কবীর লিন্টু, পোড়াদহ বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক বিএনপি নেতা মুন্না, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ হোসেন, পোড়াদহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান জন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাহাত, যুবলীগ নেতা পারভেজ।

বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক বিএনপি নেতা বিএনপি মুন্নার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালে মাঠের জায়গায় আমরা সহ অনেকেই তখন লিজ নিয়েছিলাম। এরপর ২০১০ সালে রেলওয়ে ঠিকাদার আশরাফুল কবীর লিন্টু হাসপাতাল ভবন ভাঙয়ার অকশোন নেই। এরপর শুরু হয় ভবনের জায়গা দখলের কাজ। সেসময় ফারুকুজ্জামান জন, মোশারফ হোসেন, রাহাত সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার লিজ না নিয়ে দোকান নির্মাণ করে বিক্রয় করে।

এই দখলদারির বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাহাত এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দোকান নির্মাণের সময় আমি একটা নিয়েছিলাম। তখন ৭০ হাজার টাকা মত খরচ হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, প্রথমে হাসপাতাল মাঠ বিএনপি নেতারা দখল করে। এরপর হাসপাতাল ভবন অকশন হলে এটা রেলওয়ের ঠিকাদার আশরাফুল কবীর লিন্টু ভবন ভেঙে ফেলে নতুন মার্কেট শুরু করে। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা সকলে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।

এবিষয়ে পোড়াদহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান জনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেখানে আমার কোন দোকান নেই। যখন যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ভাঙার কাজ পায়। তখন সে সেই জায়গা দখল নেয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের দিকে রেলওয়ে জংশন পোড়াদহ স্টেশন রেলওয়ে হাসপাতাল ভবনের পাশে ভূমি দস্যুরা জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে শহীদ তারেক বীর বিক্রম স্মৃতি সংঘ (অনিবন্ধিত) নামে একটি ক্লাব গঠন করে। ২০০৪ সালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা হাসপাতাল মাঠ দখল করে ৪৪টি পাকা দোকান নির্মাণ করে। প্রতিটি দোকান ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করা হয়। ২০০৯ সালের দিকে রেলওয়ে হাসপাতাল ভবনটি ভেঙে ৩৪ টি পাকা দোকান নির্মাণ করা হয়। এই মার্কেটের নাম দেওয়া হয়েছে শহীদ তারেক বীর বিক্রম স্মৃতি সংঘ নামে মার্কেট নির্মাণ করে ভূমিদস্যুরা। এখন সেখানে রেলওয়ে হাসপাতালের আর কোন অস্তিত্ব নেই। এলাকাবাসী জানায় ১৯৯২ সালের আগে এই হাসপাতাল থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এমনকি আশেপাশের লোকজন এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতেন। এলাকাবাসী আরো জানান, এই দোকানঘর থেকে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ সুবিধা নিয়ে থাকেন। এই জন্য তারা অনেক কিছু চোখে দেখে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পোড়াদহের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ এর ফিল্ড কানুনগো রাজিবুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবোনা। এটা আপনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নিন।

এবিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা (পশ্চিম) ডাঃ সুজিত কুমার রায় এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৯৯২/৯৩ সালের দিকে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বাংলাদেশ রেলওয়ের ৬৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে নামিয়ে ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রাখেন। সেই সময় পোড়াদহ রেলওয়ে হাসপাতালের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্লোজ করে নেওয়া হয়। হাসপাতাল দখলের বিষয় আমি কিছু বলতে পারবোনা।

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (পাকশী) শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই সংবাদটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © swadeshbarta24.com
Design & Developed BY Anamul Haque Rasel