সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অসময়ে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।দিন-রাত সমানতালে চলছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার ভেলকিবাজি।একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।সলঙ্গা থানা সদরসহ গাঁও-গ্রাম এলাকার লোডশেডিংয়ের চিত্রও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে,অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।বিশেষ করে রাইচমিল,স-মিল,বরফকল, ওয়ার্কশপসহ বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।এতে বাড়ছে সময় ও আর্থিক ক্ষতি।
এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।বিদ্যুৎনির্ভর জীবনযাত্রায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে টেলিভিশন,ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শুধু তাই নয়,ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকেরা।
স্থানীয় গ্রাহকদের প্রশ্ন,চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি থাকলে এর স্থায়ী সমাধান কবে হবে?প্রতিদিন এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ কবে মুক্তি পাবে?
সলঙ্গা জোনাল অফিসের এজিএম (কম) রাকিব হাসান জানান,সলঙ্গা জোনাল অফিসের আওতায় দবিরগঞ্জ, নলকা ও সিরাজগঞ্জ রোড এই তিনটি সাবস্টেশন রয়েছে।এসব এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৩-১৪ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন,নলকা সাবস্টেশনে বিদ্যুতের ঘাটতি তেমন না থাকলেও সিরাজগঞ্জ রোড ও দবিরগঞ্জ সাবস্টেশনে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় করতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম থাকায় গ্রাহকদের শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।এ বিষয়ে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।ফলে আমরাও অনেকটা অসহায়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-১,উল্লাপাড়া আরএস-এর জেনারেল ম্যানেজার জানান,বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।আশা করা হচ্ছে,অতি অল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিং কমে আসবে।
তবে স্থানীয়দের দাবী,সাময়িক আশ্বাস নয়,বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি দূর করে সলঙ্গার গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও সহনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।