সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়ক নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফেরদৌস জামান উজ্জল। ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাটি, ইট ও বালু ফেলে এসব সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও মন্দিরে অনুদান এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অনেক কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে পানি ও কাদা জমে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে এসব সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে সড়কের অবস্থা দেখছেন ফেরদৌস জামান উজ্জল। কোন সড়কটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোন এলাকার মানুষ বেশি দুর্ভোগে রয়েছে, তা দেখে পর্যায়ক্রমে সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়কগুলোতে মাটি, ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।
জানা গেছে, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সিদ্দিকের ছেলে এবং সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বকুল সিদ্দিকীর ভাতিজা ফেরদৌস জামান উজ্জল আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর থেকেই তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন।
সম্প্রতি আমডাঙ্গা-সোনাকান্ত বিল এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বিল ও আশপাশের কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকত। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের চলাচলেও সমস্যা হতো। ড্রেন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হওয়ায় ওই এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটা কমেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া হাবিবপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের অবহেলিত একটি কাঁচা সড়কও সংস্কার করেছেন তিনি। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা চলাচল করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় সড়কটি কাদায় পরিণত হতো। বর্তমানে মাটি, ইট ও বালু দিয়ে সংস্কার করায় মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে বলে স্থানীয়রা জানান। একইভাবে বাগধা গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কও সংস্কার করা হয়েছে। সড়কটি দিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল পরিবহন করেন। সংস্কারের পর ওই সড়ক দিয়ে চলাচল অনেকটা সহজ হয়েছে।
সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কারে আর্থিক সহায়তা করছেন ফেরদৌস জামান উজ্জল। মাদ্রাসা ও মন্দিরেও অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়, মেয়ের বিয়ে এবং জরুরি বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খেলাধুলার আয়োজন ও ক্রীড়া কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করছেন। তরুণরা যাতে অবসর সময় মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়িয়ে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে, সে লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ফেরদৌস জামান উজ্জল বলেন, “হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ আমি কাছ থেকে দেখেছি। বিশেষ করে কাঁচা রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে বর্ষায় মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। তাই সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কারের চেষ্টা করছি। যেখানে মানুষের বেশি সমস্যা, সেখানে আগে কাজ করার চেষ্টা করছি। আমডাঙ্গা-সোনাকান্ত বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ করেছি। হাবিবপুর ও বাগধাসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায়ও কাজ করা হয়েছে। মানুষের চলাচলের সমস্যা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরে সহযোগিতা করছি। অসহায় মানুষের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যতটুকু সম্ভব আর্থিক সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় উৎসাহিত করছি। মানুষের কল্যাণে এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের দুর্ভোগ ছিল। ব্যক্তিগত উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক সংস্কার হওয়ায় বর্তমানে এসব এলাকায় মানুষের চলাচলে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে ইউনিয়নের সব কাঁচা সড়কের স্থায়ী উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তাঁরা।