গত ২৫ ফেব্রুয়ারি’২৬ তারিখ বুধবার দৈনিক নাগরিক ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশিত ‘‘এখনও ফ্যাসিস্ট নিয়মে চলমান জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কর্মকান্ড’’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এমডি মহোদয়কে জড়িয়ে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে কিছু মনগড়া তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমান ১৯৭৯ সালে সিএমএলএ দফতরে একটি উইংয়ে উপ-সচিব হিসেবে কিছুকাল চাকরি করেছেন মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি ১৯৭৬ সালের ১২ এপ্রিল তারিখে পিএস টু প্রেসিডেন্ট হিসেবে বঙ্গভবনে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

সেসময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। পরে ১৯৭৭ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করা মুহ: ফজলুর রহমান,সিএসপি গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণলালয়ের পূর্ণ সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সহধর্মিণী মিসেস আয়েশা শিরিন রহমান প্রাক্তন জগন্নাথ কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষিত ৩ সন্তানই আমেরিকা ও হংকংয়ে অধ্যাপনা রত।

প্রতিবেদনে ব্যাংক পরিসরে তাঁর আচার আচরণ নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক নয় বরং ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ প্রতিবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত। ব্যাংকের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণেও প্রতিবেদনেটির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পাওয়া যাবে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মচারীদের চেয়ারম্যান মহোদয়ই প্রথম কুশল বিনিময় করে সালাম দিয়ে থাকেন। কারো উপর কোনো বিষয়ে প্রভাব বিস্তার না করে পরিচালনা পর্ষদের চেয়রাম্যান হিসেবে অংশগ্রহনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহনকে স্যার সবসময়ই উৎসাহিত করেন।

ব্যাংকের পদোন্নতি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক এর সার্কুলার এবং সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগ। এসব কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিসহ ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের নির্বাহীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি। পদোন্নতির এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা এমডি’র ব্যক্তিগত কোন হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না। অথচ প্রতিবেদনে পদোন্নতিতে ‘ঘুষ বাণিজ্যে’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যথাযথ কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই মনগড়া এসব তথ্য উপস্থাপন ব্যক্তি আক্রমণ ছাড়া আর কি হতে পারে।

পদোন্নতি নীতিমালা মোতাবেক প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১ নম্বর দেয়ার কোন বিধান নেই। অথচ প্রতিবেদনে প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে ১ নম্বর দেওয়ার মিথ্যা তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। ব্যাংকের এমডি মোঃ মজিবর রহমান তাঁর নিজ যোগ্যতায় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাঠ পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন। ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ২৮ বছরে তিনি বেশিরভাগ সময় শাখা পর্যায়ে কাজ করেছেন এবং শাখা প্রধান বা এরিয়া প্রধান হিসেবে প্রধান কার্যালয় প্রদত্ত টার্গেট অর্জন করে বেশ কয়েকবার সেরা ব্যাংকার হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছেন। রুপালী ব্যাংকে জিএম পদ মর্যাদায় দায়িত্ব পালনের পর সরকার কর্তৃক ডিএমডি হিসেবে সোনালী ব্যাংকে পদায়ন করা হয়। সন্তোষজনক পারফর্মেন্স এর কারণে সরকার কর্তৃক পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সর্বশেষ নভেম্বর’২৪ এ জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে পদায়ন করা হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সন্তোষজনক পারফর্মেন্সই ছিল তাহার সফলতার একমাত্র নিয়ামক কোন ব্যক্তি বিশেষ নয়।

অর্থের বিনিময়ে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত নীতিমালা এবং ব্যাংক কোম্পানী আইনে বর্নিত বিধানাবলী অনুসরন করে সুদ মওকুফের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শাখার সুপারিশসহ নির্দিষ্ট কমিটি কর্তৃক যাচাই বাচাই পূর্বক পরিচালনা পর্ষদে উত্থাপিত হয়। ব্যাংকের রেগুলেটরি বডির গাইডলাইন মেনে পর্ষদ কর্তৃক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক্ষেত্রে কোন একক ব্যক্তির পক্ষে কোন বাড়তি সুবিধা প্রদান বা অনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগই নেই।

৫ই আগস্ট পরবর্তীতে মজিবর রহমান সিঙ্গাপুরে যান এবং সেখানে এস আলম গ্রুপের মালিকের সাথে বৈঠক করেন এবং জনতা ব্যাংকের নিকট দেনা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কোন ব্যবস্থা নিবেননা মর্মে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন মর্মে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যাহা সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রকৃতপক্ষে জনাব মো: মজিবর রহমান গত অক্টোবর’২৪ এ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি থাকাকালে ট্রেনিয়ে অংশগ্রনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন। সে সময় কথিত খেলাপী গ্রাহকের সাথে কোনো মিটিং হয় নি। বরং জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক এস আলম গ্রুপের ৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খেলাপী ১১৩৯২.১৪ কোটি টাকা আদায়ে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা দায়ের নিশ্চিত করা হয়। মামলা নং ও তারিখ যথাক্রমে ৮০৯/২৪ তা: ০১.১২.২৪, ১৫২/২৫ তা: ১১.০৩.২৫, ১৭৬/২৫ তা: ১৯.০৩.২৫, ২৭৭/২৫ তা: ১৬.০৪.২৫, ১৫৭/২৫ তা: ১৬.০৩.২৫ এবং ২৭৮/২৫ তা: ১৭.০৪.২৫।

প্রতিবেদনে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী হতে কমিশন গ্রহণের যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। প্রকৃতপক্ষে ঋণ প্রদানকালে ঋণকে ঝুঁকিমুক্ত করতে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের পরিসম্পদ বীমাকরণের শর্তারোপ করে থাকে, যাহার পরিপালন একান্তভাবে শাখার উপর নির্ভর করে। এটি একটি আবশ্যিক শর্ত। এখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোনো ভূমিকা থাকে না। অতএব প্রতিবেদনটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এমডি মহোদয়ের ব্যক্তিগত চরিত্রহননে কুৎসা রটনার হীন উদ্দেশ্যে প্রকাশ বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা প্রকাশিত প্রতিবেদনটির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।