সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বিনায়েকপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুস সামাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা দেখানো, অডিটের নামে অর্থ দাবি এবং প্রতিবাদী শিক্ষককে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগকারী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সুপার আবদুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরে মাসে মাত্র এক থেকে দুই দিন মাদ্রাসায় আসেন। আবার কোনো কোনো মাসে একদিনও উপস্থিত হন না। অথচ হাজিরা খাতায় তাকে নিয়মিত উপস্থিত দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী মৌলভী শিক্ষক আবদুস ছালাম সুপারের পক্ষে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।
এছাড়া সুপার আবদুস সামাদ, শিক্ষক সিহাব উদ্দীন এবং নৈশপ্রহরী আক্তার হোসেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও তারা মাদ্রাসায় একদিনও উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিট উপলক্ষে সুপার আবদুস সামাদ ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ বিষয়ে বিএসসি শিক্ষক মোমেনা খাতুন প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মাদ্রাসাটিকে সংকটে ফেলে সুপার নিজে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই মামলা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুপার আবদুস সামাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। বিনায়েকপুর দাখিল মাদ্রাসাও সেই তালিকায় রয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মাদ্রাসাটির শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।