দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা চৌরাস্তার মাদ্রাসা মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ধান হাট হিসেবে পরিচিত সলঙ্গা হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ ধান কেনাবেচা হয়। উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, কামারখন্দ ও শাহজাদপুর উপজেলার হাজারো কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান এ হাটে বিক্রি করতে আসেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এখান থেকে ধান সংগ্রহ করেন। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকেই সলঙ্গা বাজারের প্রধান প্রবেশপথ মাদ্রাসা মোড়ে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ যানজটের কারণে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবার যানবাহন এবং দূরপাল্লার পরিবহনও যানজটে আটকে পড়ত। এ অবস্থার অবসানে মাদ্রাসা মোড়ে স্থায়ীভাবে একজন ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে ওই মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হলে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। ট্রাফিক সদস্যদের সক্রিয় তদারকির ফলে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং হাটে আগত কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেকটাই নির্বিঘ্ন হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান হয়েছে। তারা এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হাটের ব্যস্ত সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনেরও দাবি জানান।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, সলঙ্গা মাদ্রাসা মোড়ে দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করবেন। এর ফলে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ধান ও গরুর হাটে আসা কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। তিনি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলা এবং জেলা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।