
প্রতিনিধি,সিরাজগঞ্জ :.
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা,মামলা-হামলা,নির্যাতন ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা পেরিয়েও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার ১নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আমিরুল ইসলাম।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের সুবাদে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।
নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ,মতবিনিময় ও জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন আমিরুল ইসলাম।চেয়ারম্যান পদে একাধীক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কারণে তাকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা,সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মেশার স্বভাব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে তাকে গরিবের বন্ধু হিসেবেও অভিহিত করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য,বিএনপির রাজনৈতিক দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা,বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচীতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখার কারণে আমিরুল ইসলাম একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলের প্রতি তার আনুগত্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় বর্তমানে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।কৃষকের ফসলের মাঠ,গ্রামের পাড়া-মহল্লা,চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার সবখানেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি।এলাকার মানুষের সমস্যা,দুর্ভোগ ও প্রত্যাশার কথা শুনে সেগুলো সমাধানের বিষয়ে নিজের অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে আমিরুল ইসলাম ১নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।এ ছাড়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের একটি অংশ মনে করেন, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা,দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক আসন্ন নির্বাচনে তার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে,নিজস্ব অর্থায়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ,সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন আমিরুল ইসলাম।এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা তার সমর্থকদের।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভোটারদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিনের পরিচিত ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় আমিরুল ইসলামকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখার আগ্রহ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে তাকে নিয়ে জোরেসোরে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন কার পক্ষে যায়,তা এখনো নিশ্চিত নয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী তৎপরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আমিরুল ইসলাম মনে করেন,নির্বাচনে শেষ কথা বলবেন ইউনিয়নবাসী। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সম্মানিত ভোটার ভাই-বোনদের মূল্যবান ভোট ও রায়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পাবেন। জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চান বলেও জানান আমিরুল ইসলাম।
