পটুয়াখালীতে জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও বন কর্মকর্তা : ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

প্রতিনিধি,পটুয়াখালী :
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জের মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খানের বিরুদ্ধে জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার ভুঁইয়াকান্দা বাজারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাদল হাওলাদার, মহসিন ভুঁইয়া, মনির তালুকদাসহ অর্ধশতাধিক জেলে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ ইতোমধ্যে কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিট কর্মকর্তা চর হেয়ার, চর তুফানিয়া, চর তালুকদার, চর তালেব, চর বগলা, চর আশাবাড়িয়া, জাহাজমারা, চর তোফাজ্জেল, গ্যাপের চর, মৌডুবির ভাঙারখাল, কেউর হাওলা, কাজিকান্দাসহ নিজকাটা এলাকার নদী তীরবর্তী চরের অববাহিকায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্ট্রিপ বনায়ন (বেড়িবাঁধ বনাঞ্চল) ইজারা দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। অর্ধ শতাধিক জেলের কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। চর ও নদীর মোহনায় ইলিশ, কোরাল, চিংড়ি ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ধরেন জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা অথচ এই সাগরের জেগে উঠা চরগুলো লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান।

তারা বলেন, একটি চর দেওয়ার নামে অন্তত ২ থেকে ৫ জনের কাছে ঘুষ নিয়েছেন। স্থানীয় জেলে মহসীন ভুঁইয়ার কাছে দেড় লাখ, বাদল হাওলাদারের কাছে ১ লাখ ১০ হাজার, মিজানুর ভুঁইয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মনির তালুকদারের কাছে ১ লাখ ৩২ হাজার, কালাম ভুঁইয়ার কাছে ৬০ হাজার, নজরুল হাওলাদারের কাছে ৭০ হাজার, মোশাররফের (হাফেজকান্দা) কাছে আশারবাড়িয়ার চরের জন ২ লাখ ২০ হাজার, মোশারফ মাতব্বরের কাছে খালের জন ২৫ হাজার, ইলিয়ার পাটোয়ারির কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মহিবুল্লাহ ভুঁইয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলেদের কাছে লাখ লাখ টাকা নিয়ে চর দিয়েছেন কর্মকর্তা।

মানববন্ধনে সামসুল আলম হাওলাদারের ছেলে শামীম হাওলাদার বলেন, বিট কর্মকর্তা শোয়েব খান ১ লক্ষ টাকা নিছে চর তালুকদার দিবে বইল্যা। সরকারি হিসাব তো আমরা বুজি না। উনি তো আমাদের ‘মদন’ বানাইয়া টাকা নিছে। একই চর দেখাইয়া একাধিক লোকের কাছে লাখ লাখ টাকা নেছে। গোপনে বন কর্মকর্তা ১ লাখ, দেড় লাখ, দুইলাখ এমনকি তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নেছে।
মানবন্ধনে আরেক জেলে বলেন, আমি সুদের উপর টাকা নিয়ে এসে ৬০ হাজার টাকা দিছি। যদি টাকা না দিই তাহলে বলে যে গাছ কাটার মামলা দিবে, বিষ দেওয়ার মামলা দিবে। বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে কায়দা করে উনি টাকাগুলো নিয়ে গেছে। টাকা না দিলে টোটালি ঢুকতে দিবে না চরে। আমরা সাধারণ মানুষ কি করতে পারি। এমনকি কাঁকড়া ধরতে গেলেও টাকা দিতে হয়।

মৌডুবির ৬ নং ইউনিয়নের ৭ ন ওয়ার্ডের মহসিন ভুঁইয়ার কাছে থেকে বিট কর্মকর্তা শোহেব খান নিয়েছেন মোট সাড়ে ৩ লাখ। প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। মহসিন ভুঁইয়া বলেন, আমরা মাছ ধরেই খাই। আমার কাছে টাকা নিয়েছে মোট সাড়ে ৩ লাখ বিট কর্মকর্তা শোহেব খান। চর তুফানিয়া দিবে বইলা টাকা নিছে প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। আমার জানা আছে একই চরের জন বাদল হাওলাদারের কাছেও টাকা নিছে। আমরা এখন চাই, আমাদের কাছে টাকা নিছে চর দিবে বইলা-দিতে পারে নাই। এখন টাকা ফেরত চাই। গতবছর একই কর্মকর্তা নিছে পৌঁনে ৩ লাখ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খান বলেন, যেসব চর যাকে দেওয়ার কথা ছিল তাদেরকে সেসব চর দেওয়া হয়েছে। উর্দ্ধতন কোনো কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার কথা নাই। আর আপনারা যা খুশি করেন।

রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, জেলেরা যদি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে থাকেন তাহলে অন্যায় করেছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সমান অপরাধ। বন বিভাগ তার অপরাধ জানার পর তাকে সরিয়ে দিয়েছে। আমার হাতে বিট কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ আসার পর আমি তাকে সরিয়ে দিই। টাকা যদি জেলেরা পায় তাহলে তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে আদায় করবে আর বন আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে সেটাই করা হবে।
এরআগে একই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় অঞ্চলের (বরিশাল) বন সরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করীম বলেন, আমার কাছে টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি। আর আমাকে সে টাকা দেয় বলছেন- আমাকে সেই কর্মকর্তা কি চিনে? আমি ওই ধরনের কোনো কর্মকর্তাকে চিনি না।