ভাতা উত্তোলনে ব্যাংক এশিয়ার সেবা নিয়ে অভিযোগ

প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাংক এশিয়ার সেবা নিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন একাধিক উপকারভোগী।

অভিযোগ, ব্যাংকে বারবার গেলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় অনেকেই দিনের পর দিন ঘুরছেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় মানুষকে সময়, অর্থ ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা, পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না অনেকে। বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নারী উপকারভোগীদের দুর্ভোগ বেশি।
এমনই একজন চর সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কহিল উদ্দিনের ছেলে, ১১ বছর বয়সী পা হারানো প্রতিবন্ধী ওয়ালিদ হাসান। পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রতিবন্ধী ভাতার চার কিস্তি উত্তোলনের পর বর্তমানে আর কোনো টাকা তুলতে পারছেন না। সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁরা কয়েক দফা ব্যাংকে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। এতে প্রতিবন্ধী শিশুটির পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
খালিদের মতো একই সমস্যায় পড়েছেন পুর্নিমাগাতি ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী আলিফ, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সাকিবুল সহ অনেকে।

এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়া পঞ্চক্রোশী এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দায়িত্বরত নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সম্পূর্ণ দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো দায় নেই। এটি মূলত গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের সমস্যা।

​এদিকে সরকারি এই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর টাকা বিতরণে এজেন্টদের এমন অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় প্রশাসনও।
উল্লাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ​ভাতাভোগীদের চরম হয়রানি ও ভোগান্তির বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। এ নিয়ে ব্যাংক এশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েক দফা কথা বলেছি। তারা প্রতিবারই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আমি তো ব্যাংক এশিয়ার কোনো কর্মকর্তা নই, তাই সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারি না। আমি শুধু তাদের বিষয়টি অবগত করতে পারি।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যাতায়াত খরচ ও শারীরিক কষ্ট সহ্য করে ব্যাংকে এসে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ভোগান্তি কমানো, কিন্তু ব্যাংক এশিয়ার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীনতায় তা এখন সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই চরম হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং দ্রুত তাদের প্রাপ্য ভাতার টাকা বুঝে পেতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।