নাগরপুরে পাট চাষ লক্ষ্যমাত্রার বেশি উৎপাদন  সোনালী আঁশে সাফল্যের হাতছানি

প্রতিনিধি, নাগরপুর :
প্রকাশ: ১৫ ঘন্টা আগে

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় এবারও পাট চাষে মুখর হয়ে উঠেছে কৃষক সমাজ। উপজেলার ভাদ্রা, পাকুটিয়া, সলিমাবাদ ও বেকড়া, গয়হাটা, ভাড়রাসহ ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠজুড়ে দুলছে সোনালী আঁশের সবুজ গাছ। কৃষকরা জানাচ্ছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও জমির উপযোগী পরিবেশের কারণে এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নাগরপুরে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল আবাদ ১৮৬০ হে.। উৎপাদন ৩১৭৭ মে.টন। ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশা করা হচ্ছে, এ বছর প্রায় ৩১হাজার ৭৭ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে। 

স্থানীয় কৃষক দুলাল সরকার বলেন, আমরা প্রতিবছরই কমবেশি পাট চাষ করি। এবার শঙ্খ  জাতের পাট দুই বিঘায় আবাদ করেছিলাম, পাটগাছের বৃদ্ধিও ভালো হয়েছে। এই জাতের বৈশিষ্ট্য হলো, পাটের আঁশ মোটা ও ওজনে ভারী এবং গাছ অনেক শক্তিশালী হয়। যদি বাজারে ন্যায্য দাম পাই, তবে আবাদ চলমান থাকবে।
আরো একাধিক কৃষকের অভিমত, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম দিন দিন বাড়ছে। তবুও পাট চাষ করি, কারণ এটা আমাদের ঐতিহ্য। তা ছাড়া পাটখরি আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের উপকরণ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. রাশেদুল হাসান বলেন, আমরা সরকারি উদ্যোগে পাট চাষীদের বিনামূল্যে বীজ বিতরণসহ নানা প্রণোদনা দিয়ে থাকি। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি পরামর্শের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করছি, এবার কৃষকেরা ভালো ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাবেন।

উল্লেখ্য: একসময় পাট ছিল দেশের প্রধান রপ্তানি আয়। এখনও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ আঁশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কৃষকেরা মনে করেন, সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ, বন্ধ জুট মিলগুলো চালু করনসহ ন্যায্য বাজার মূল্য নিশ্চিত হলে নাগরপুরসহ সারাদেশে পাটের সুদিন আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।