দিল্লিতে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠান নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে আগামী ৫ আগস্টের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন সেটা কতটুকু এগোবে তা নির্ভর করছে ভারতের ওপর।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আশাবাদী ভারতের হাইকমিশনার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আশাবাদী ভারতের হাইকমিশনার
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারে আসার পরে আমরা সবসময় বলেছি, যতবারই এই পলাতক আসামি বা আওয়ামী লীগের অন্য পলাতকরা ওখান (ভারত) থেকে কথা বলবে, রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে বা বাংলাদেশের অবস্থা অস্থিতিশীল করার জন্য তারা ষড়যন্ত্রমূলক কাজে লিপ্ত থাকবে, সেটা যদি তারা করে… (বাক্য শেষ করেননি প্রতিমন্ত্রী)।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ আগ্রহী উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেদিনই ভারতের নিযুক্ত হাইকমিশনার আমাদের এখানে এসেছেন। তার সঙ্গে আমাদের খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। অনেক ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা ফরোয়ার্ড লুকিং একটা অ্যাটিটিউড নিয়ে এগোচ্ছি ভারতের সঙ্গে। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, সেটা আমরাও চাই না এবং আমার গভীর বিশ্বাস যে ভারতও সেটা চায় না। সুতরাং এটা ভারতকেই ক্লিয়ার করতে হবে যে ভারত (আ.লীগকে) সমর্থন দিচ্ছে কিনা।’

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা আপত্তি কার কাছে জানাবো, কারণ একটা নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান যে অনেক ধরনের ক্রাইমে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তিনি কোথায় কী বলছেন, করছেন—বাংলাদেশ সরকারের তার জবাব দেওয়ার সময় নেই। কিন্তু আমরা যেটা ফলো করছি, ভারত সরকারও ইতোমধ্যে কিন্তু একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে, তারা আশা করে না ওখানে পলাতক একজন আসামি রাজনৈতিক কোনও কথা বলবে বা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে, সেটা ভারত সরকার সমর্থন করে না। এই রিসেন্ট যেটা… তারা অনলাইন মিটিং করবে বা যেটাই করবে, সেটা ভারত সরকার সমর্থন করে কিনা, সেটা ভারত সরকারকে ক্লিয়ার করতে হবে।’

বাংলাদেশ কোনও প্রতিবাদ জানাবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠান ভারতে হচ্ছে। যদি আমরা প্রয়োজন মনে করি ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করবো, ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে হবে। সরকার স্টেটমেন্ট দিয়েছিল ভারতের মাটি ব্যবহার করে পলাতক বা সাজাপ্রাপ্ত কেউ যেন কোনও পলিটিক্যাল কার্যক্রম চালাতে না পারে। বহুবার তাদের বলা হয়েছে, যখনই তাদের সঙ্গে আমাদের কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে সেই বিষয়টি আমরা আমাদের তরফ থেকে ক্লিয়ার করছি।’

তিনি বলেন, ‘(শেখ হাসিনা ও আ.লীগের নেতারা) যেহেতু ভারতে আশ্রিত আছেন, পলাতক আছে— এটা ভারত সরকারকে ক্লিয়ার করতে হবে এবং বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক যেদিকে যাচ্ছে তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আমরা তা চাচ্ছি না। আমি মনে করি বাংলাদেশের মানুষ চায় না, বাংলাদেশও চায় না যে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও নেতিবাচক হোক। আমরা চাই (সম্পর্ক) আরও উন্নত হোক এবং উন্নতির দিকেই যাচ্ছে। সুতরাং সেটি মাথায় রেখেই ভারত ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম চালাবে।’