
প্রতিনিধি,সিরাজগঞ্জঃ
সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক, দৈনিক সংবাদের জেলা বার্তা পরিবেশক ও প্রবীণ বিশিষ্ট সাংবাদিক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬ খ্রি) বাদ জুমা সিরাজগঞ্জ শহরের মালশাপাড়া পৌর কবরস্থান মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজায় সিরাজগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার ভোরে সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কের নিজ বাসভবনে মারা যান আব্দুল কুদ্দুস। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন আব্দুল কুদ্দুস। গত ১৭ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে তাঁকে নিজ বাসায় নেওয়া হয়। এরপর এক মাসের বেশি সময় শয্যাশায়ী থাকার পর শুক্রবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রায় ৫০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে আব্দুল কুদ্দুস সিরাজগঞ্জের সাংবাদিকতা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক সংবাদের জেলা বার্তা পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আমৃত্যু পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।তরুণ সংবাদকর্মীদের কাছে আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন অভিভাবকতুল্য। নবীন সাংবাদিকদের স্নেহ, পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন পথ দেখিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক কলম সৈনিকের সম্পাদক আব্দুল হামিদ বলেন, আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন, সিরাজগঞ্জের সাংবাদিকতা অঙ্গনের একজন অভিভাবকতুল্য ব্যক্তি। তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন ছিল সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত। তাঁর মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ একজন অভিজ্ঞ ও শ্রদ্ধাভাজন মানুষকে হারিয়েছে।
জাতীয় “দৈনিক সকালে সময়” পত্রিকা এবং “দৈনিক জয়সাগর” পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক আজিজুর রহমান মুন্না বলেন, আব্দুল কুদ্দুস চাচা আমার সাংবাদিকতা জগৎ এর ওস্তাদ। তিনি শুধু প্রবীণ সাংবাদিকই ছিলেন না, নবীনদের জন্য ছিলেন একজন অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। তাঁর মৃত্যু সিরাজগঞ্জের সাংবাদিকতা অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রবীণ এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন। জানাজায় উপস্থিত সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
