
প্রতিনিধি,ভাঙ্গুড়া (পাবনা) :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলাসহ ঐতিহ্যবাহী চলনবিল অঞ্চলে এক সময়ের দর্শক ও জনপ্রিয় এবং সর্বশেষ টিকে থাকা “মৌচাক সিনেমা হলটি ” কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রায় একযুগ পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া মৌচাক সিনেমা হলের ভবনটি ভেঙে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল বিশিষ্ট আবাসন ভবন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মৌচাক সিনেমা হল মালিক পক্ষ আবাসন নির্মাতা কোম্পানীর নিকট নতুন বহুতল ভবন নির্মানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।আবাসন নির্মাতারা ঐতিহ্যবাহী মৌচাক সিনেমা হলের পূর্বে নাম ঠিক রেখে “মৌচাক টাওয়ার ভবন” নাম দিয়েছে।ফলে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলাসহ চলনবিল অঞ্চলের ভাঙ্গুড়া মৌচাক সিনেমা হলটির দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐহিত্যের অবসান হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এক সময় ঈদ ও পূজাসহ বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ দিনে মৌচাক সিনেমা হলে দর্শকদের উপচেপড়া ভীড় থাকত। পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা দেখতে আসতেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আশি ও নব্বই দশকে হলটিতে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি “শো” প্রর্দশিত হতো।জনপ্রিয় অনেক সিনেমা দর্শকের চাহিদায় টানা এক মাস পর্যন্ত প্রদর্শিত হতো।সিনেমা প্রেমিরা জানান,পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একসময় মৌচাক, রংধনু ও পাইলট সিনেমা হল নামে তিনটি সিনেমা হল ছিল। চলচ্চিত্রের মন্দা, ভালো সিনেমার সংকট, স্যাটেলাইট চ্যানেলের বিস্তার এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে হলের দর্শক।এক পর্যায়ে দর্শক অভাবে সারাদেশের ন্যায় ভাঙ্গুড়া সদরে নির্মিত রংধনু ও পাইলট সিনেমা হল ২টি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৩ যুগ পূর্বে বন্ধ হয়ে যায় মৌচাক সিনেমা হল।
সিনেমা হলটির পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন লোকসানের কারণে বিশেষ বিশেষ দিবস-উৎসব উপলক্ষে চালু রাখা হতো ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সর্বশেষ টিকে থাকা মৌচাক সিনেমা হল। সর্বশেষ প্রায় ৫মাস পূর্বে আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমাটি মৌচাক সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়।তার পর থেকে পুরোপুরি হলটি বন্ধ হয়ে যায়।
ভাঙ্গুড়ায় দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে সিনেমা হলের “বই” প্রচারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন মো. আব্বাস আলী (ফাটাই মামা)। তিনি বলেন, একসময় ঈদ উপলক্ষে সিনেমা হল উৎসবমুখর হয়ে উঠত।দর্শকের ভিড়ে হল প্রাঙ্গণ সরগরম থাকত। কর্মচারীরাও সারা বছর বোনাসের অপেক্ষায় থাকতেন। দর্শকের করতালিতে মুখরিত সেই মৌচাক সিনেমা হল এখন শুধুই স্মৃতি।
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নির্মল কুমার রায় বলেন, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলাসহ ঐহিত্যবাহী চলনবিল অঞ্চলের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গুড়ায় অবস্থিত ” মৌচাক সিনেমা হলটি শুধু একটি পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্র ছিল না,এটি ছিল এক সময়ের প্রাণবন্ত স্বাক্ষী। মৌচাক সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে ভাঙ্গুড়ায় কোনো সিনেমা হল আর অবশিষ্ট রইলো না। নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে পুরোনো স্থাপনা হারিয়ে গেলেও যুগ যুগ মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে মৌচাক, রংধনু ও পাইলট সিনেমা হল।
