
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় একটি মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক ও এক শিক্ষিকাকে ঘিরে পরকীয়া প্রেম ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।মাদ্রাসাটির কার্যক্রম বন্ধসহ অভিযোগের সুষ্ঠ তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বলাইশিমলা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আনিসুর রহমান মাহমুদপুর বাজারে ‘মারকাযুত তাকওয়া মহিলা মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করে পরিচালক ও হেড মাওলানার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।মাদ্রাসাটিতে আবাসিক ছাত্রী থাকায় রাতের বেলায় দায়িত্ব পালনের কথা বলে পরিচালক আনিসুর রহমান এবং একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকা সেখানে অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের দাবী,দীর্ঘদিন ধরে তাদের দু’জনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে,এমন গুঞ্জন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চলে আসছিল। একপর্যায়ে বিষয়টি পরিচালকের পরিবারের মধ্যেও সন্দেহের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে,সম্প্রতি গভীর রাতে ওই শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে ঘিরে একটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হইচই শুরু হয়।এ সময় আবাসিক শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিষয়টি জানতে পারেন বলে স্থানীয়দের জানায়।ঘটনাটি পরিচালকের স্ত্রীরও আপত্তি রয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবী,পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি শুরু হলে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের খুজে পাওয়া যায় নি বলে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক মাও: আনিসুর রহমান তার মুঠোফোনে জানান,আমার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে।এই ঘটনায় আমি একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে ও থানায় জিডিও করেছি। এ সকল ঘটনায় আমি ও আমার শিক্ষিকা জড়িত নই।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ,বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল ও কতিপয় নেতাকর্মী তৎপর রয়েছে।এমনকি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেও ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্টদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে।অভিযুক্ত শিক্ষিকাও বাড়িতে নেই বলে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে ।অন্যদিকে,ঘটনাটি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আনিসুর রহমান নাটকীয় সংবাদ সম্মেলন করায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে চারা বটতলা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবী করেন,অভিযুক্ত শিক্ষক আনিছুর ও ওই শিক্ষিকা এর আগে চারা বটতলা এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কারণে সেটি বন্ধ করে দেন।এরপর আবার গিয়ে মাহমুদপুর এলাকায় নতুন করে অন্য নামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবী,আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার পরিবেশ,শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবীও জানিয়েছেন স্থানীয়রা ।
