প্রতিনিধি,রায়গঞ্জ : রাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আবুল কালাম আজাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অন্যের কাছ থেকে ধার করা হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল সেই আবুল কালাম এবার পেলেন নিজের একটি হুইলচেয়ার।
সম্প্রতি তাঁর দুর্দশার কথা তুলে ধরে ‘খোলা বার্তা’ অনলাইন গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর আবুল কালামের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘প্রচেষ্টা সবার জন্য’ সংগঠন ও ‘হাউজ অফ মান্নান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’।
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ভুইয়াগাতি এলাকায় খোলা বার্তা কার্যালয়ে আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর পরিবারের হাতে হুইলচেয়ারটি তুলে দেওয়া হয়। ‘প্রচেষ্টা সবার জন্য’ সংগঠনের সহযোগিতায় এবং ‘হাউজ অফ মান্নান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর অর্থায়নে হুইলচেয়ারটি পাঠান মো. শাহবাজ খান সানি।
হুইলচেয়ার পেয়ে আবুল কালাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় খোলা বার্তা অনলাইন গণমাধ্যমের বার্তা সম্পাদক মো. পারভেজ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও এক পায়ে ভর করে দীর্ঘদিন দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন আবুল কালাম। পাশাপাশি একটি অটোরিকশাও চালাতেন তিনি। কিন্তু পায়ে ঘা হয়ে পরবর্তীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়।
এরপর থেকেই বদলে যায় তাঁর জীবন। কর্মক্ষমতা হারিয়ে ঘরে বসে পড়েন তিনি। চলাফেরার জন্য অন্যের কাছ থেকে সাত দিনের জন্য একটি হুইলচেয়ার ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে সেটিও ফেরত দিতে হবে—এমন চিন্তায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল তাঁর।
আবুল কালামের এই অসহায়ত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি মানুষের নজরে আসে। শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় দুটি মানবিক সংগঠন। তাদের উদ্যোগে এবার আর ধার করা নয়, নিজের একটি হুইলচেয়ার পেলেন তিনি।
তবে শুধু আবুল কালামের চলাফেরার সংকটই নয়, তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা। তাঁর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে সুমন বাবার পা হারানোর পর সংসারের হাল ধরতে অটোরিকশা চালাতে শুরু করেছে। এতে তার পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
একটি হুইলচেয়ার আবুল কালামের চলাফেরার কষ্ট কিছুটা কমালেও তাঁর পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ও ছেলে সুমনের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
