সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর ধরে কোনো নিয়মিত শিক্ষার্থী নেই। অথচ বিদ্যালয়টিতে তিনজন শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও দুজন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সব শ্রেণিকক্ষই ফাঁকা। শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও কোনো পাঠদান কার্যক্রম নেই।
এক শিক্ষক জানান, তিনি প্রায় তিন বছর আগে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে দেখেননি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন এবং নির্ধারিত সময়েই চলে যান। শিক্ষার্থী থাকলে পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছি, সভা করছি এবং শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আসছে না।’
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, একসময় বিদ্যালয়টিতে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে। একপর্যায়ে পরিবারগুলো সন্তানদের কাছাকাছি অন্য বিদ্যালয় ও শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে শুরু করে।
স্থানীয় অভিভাবক মণিরা আনোয়ার বলেন, ‘একসময় বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। ধীরে ধীরে সংখ্যা কমেছে। এখন কোনো শিক্ষার্থীই নেই।’
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম বিদ্যালয়টির কাছেই বসবাস করলেও অন্য একটি বিদ্যালয়ে পড়ে। সে জানায়, ‘এই স্কুলে কেউ আসে না। তাই আমিও এখানে পড়ি না।’
বিদ্যালয়টির অবস্থান বওলাতলা গ্রামের বিপরীতে একটি নদীর ওপারে। স্থানীয়দের মতে, আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে এলাকায় স্কুলপড়ুয়া বয়সী অনেক শিশু রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আশপাশের অন্য বিদ্যালয় বা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে।
বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুৎ, পানি ও আধুনিক শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিভিন্ন জায়গায় ঘাস ও আগাছা জন্মেছে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না থাকলেও বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক চাকরিতে বহাল রয়েছেন। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণও অব্যাহত রয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।’ বিদ্যালয়টি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দও পেয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়টি শেষ পর্যন্ত অন্য একটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হতে পারে। তবে বিভাগীয় মামলা বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি জানাতে পারেননি।
নিয়মিত শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও একটি সরকারি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু থাকা, তিন শিক্ষককে বহাল রাখা এবং সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
