সরকারি চাকরি বিধিমালা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা সদরে কোচিং সেন্টার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম উপজেলার ঝিকিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় এনএস কোচিং সেন্টার-এর পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তার কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রচারণাও চালাচ্ছেন। একজন সরকারি শিক্ষকের এমন বাণিজ্যিক প্রচারণা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা, ২০১২ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাণিজ্যিকভাবে কোচিং সেন্টার পরিচালনা বা কোচিং বাণিজ্যে অংশ নিতে পারেন না। এছাড়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক বা লাভজনক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন না। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিধান উপেক্ষা করেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের দাবি, প্রায়ই তাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা যায়। এই ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন। তবে এ অভিযোগের স্বপক্ষে তারা কোনো প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করেননি।
শিক্ষক শাহ আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক এ্যাকাউন্টে পোষ্ট দিয়ে তার নিজস্ব কোচিংয়ের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়টি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
