ইসলামিক বইকে ‘জঙ্গি’ বানিয়ে ৩ ছাত্রীকে পুলিশে দেয়ার মামলায় সেই শিক্ষিকা নিলুফা’কে বদলী

প্রকাশ: ৫৩ minutes ago

প্রতিনিধি,কুমিল্লা :
প্রায় এক দশক আগে ইসলামিক বইকে ‘জঙ্গিবাদের আলামত’ দেখিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের তিন ছাত্রীকে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বদলি হয়েছেন। তবে বদলিকে যথেষ্ট মনে করছেন না ভুক্তভোগীরা; তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আজ সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার ভূঞা বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে নিলুফার সুলতানাকে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।নয় বছর ৯ মাস ২৭ দিনের আইনি লড়াই ভুক্তভোগীরা হলেন— হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্রী অ্যাডভোকেট কানিজ ফারহানা বাতুল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক ছাত্রী আরজিনা আক্তার চম্পা এবং সালমা আক্তার। তাঁরা সবাই নবাব ফয়জুন্নেছা হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই গভীর রাতে হলের কক্ষে ডা. জাকির নায়েকের \*লেকচার সমগ্র\*সহ কয়েকটি ইসলামিক বই পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। দীর্ঘ নয় বছর ৯ মাস ২৭ দিন আদালতে হাজিরা, জামিন ও সামাজিক কলঙ্কের ভার বহনের পর ২০২৬ সালের ২৪ মে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনজনকে খালাস দেন।আমরা কি বিচার পাব?”
অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার বিচার দাবি করে তিন সাবেক ছাত্রী বলেন,
নয় বছরেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়নি। এখন যিনি আমাদের বিরুদ্ধে এই নাটক সাজিয়েছিলেন, তিনি কুমিল্লা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। আমরা কি এই ঘটনার বিচার পাব?”
তাঁদের অভিযোগ, মামলার পুরো সময়ে কলেজ প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সহায়তা করেনি। অধ্যক্ষের বক্তব্য কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার ভূঞা বলেন,
তাদের জীবনে যা ঘটে গেছে, আমরা কি সেটা ফিরিয়ে দিতে পারব? আমাদের তদন্ত কমিটি বলেছে, এগুলো ইসলামিক বই— জঙ্গিবাদের বই নয়।”
তবে কলেজ প্রশাসন এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কোনো সুপারিশ পাঠিয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নবাব ফয়জুন্নেছা হল থেকে তিন ছাত্রীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন তৎকালীন সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা। ধর্মীয় বইকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সেই সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় প্রায় এক দশক পর আদালত তিন ছাত্রীকে সম্পূর্ণ খালাস দেন।