ভাঙ্গুড়ায় প্রতারণা মামলায় পদ্মা এন্টারপ্রাইজের পার্টনার আটক

প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

প্রতিনিধি, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) :
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ইট বিক্রয়ের চুক্তি করে সোয়া ৭ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রায় ৬ বছর পরেও ইট না দেওয়ায় “মেসার্স পদ্ম এন্টার প্রাইজের” স্বত্বাধিকারী ৫ পার্টনারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন পাওনাদার খুরশিদা পারভীন দীনা নামক এক মহিলা।গতকাল ভাঙ্গুড়া থানায় এই প্রতারণার মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ৫ আসামীর মধ্যে লিটন হোসেন নামের একজনকে আটক করেছেন। পুলিশ বলছেন, বাকী আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ইট বিক্রয়ের নামে তারা এলাকার অনেক নিরীহ লোকের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইটভাটা বন্ধ করে এলাকাতেই ঘুরে বেড়াছিলেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহানগর এলাকায় কয়েক বছর পূর্বে উত্তর মেন্দা এলাকার আহাম উদ্দীনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৫), ভাঙ্গুড়া মসজিদ পাড়ার মৃত ইন্তাজ আলী প্রাং এর ছেলে মাহাফুজুর রহমান ওরফে হ্যালো(৫৫), লিটন হোসেন(৪৬),দক্ষিণ মেন্দাকুমড়াডাঙ্গা গ্রামের মোঃ আমির হোসেন- এর ছেলে ইকরামুল হক(৫০),দক্ষিণ মেন্দা পালপাড়ার মৃত মঙ্গলা সূত্রধর-এর ছেলে মিন্টু কুমার সূত্রধর(৪৫)পরস্পর পাটনার শীপ ব্যবসায়ী হিসেবে”পদ্মা এন্টার প্রাইজ” নামে একটি ইটভাটা গড়ে তোলেন। সেখানে অল্পদিনের মধ্যে অগ্রিম ইটবিক্রয়ের নামে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই তারা ভাটা বন্ধ করে অন্যান্য ব্যবসায় ব্যক্তিগত ভাবে চলে যান। এর পর থেকেই মুলত সাধারণ ইট ক্রেতারা ‘ দাদন ক্রয়ের’ ইট না পেয়ে তাদের পাওনা টাকার জন্য বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অগ্রিম টাকা দিয়ে ইট ক্রেতাদের মধ্যে দক্ষিণ মেন্দা কুমড়াডাঙ্গা গ্রামের রইচ উদ্দিন মেয়ে খুরশিদা পারভীন দীনা।তিনি গত মঙ্গলবার(২২সেপ্টম্বর)রাতে তার পাওনা টাকা দীর্ঘদিন না পেয়ে অবশেষে মামলা দায়ে করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষার শাহানগর এলাকায় “মেসার্স পদ্মা এন্টারপ্রাইজ (পি.বি.ই ব্রিকস্)”নামে একটি ইটভাটা রয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর-২০২১ খ্রি. বিকাল প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে ” মেসার্স পদ্মা এন্টারপ্রাইজ(পি,বি,ই ব্রিকস্)” নামক ইট ভাটার অফিস কক্ষে অগ্রিম-১ লাখ৫০ হাজার(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার)টি ইট ক্রয় বাবদ বিবাদীগণকে মোট ৭লাখ ২৫ হাজার(সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার)টাকা প্রদান করেন।১নং বিবাদী টাকা গুনে বুঝে নিয়ে তাকে একটি মানি রশিদ প্রদান করে। ইট ক্রয়ের সময় বিবাদীগণের সাথে তার মৌখিকভাবে এই মর্মে চুক্তি হয় যে, তিনি যখন উক্ত ইটগুলো নিতে চাইবো, তখন বিবাদীগণ ক্রয়কৃত ইট বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে। পরবর্তীতে কিছুদিন পরে তিনি বিবাদীগণের উক্ত ইটভাটায় গিয়ে ক্রয়কৃত ইট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বললে বিবাদীগণ ইট দিচ্ছি, দেবো বলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। বিবাদীগণের নিকট হতে ইট বুঝিয়ে না পেয়ে একপর্যায়ে বাদীর প্রদানকৃত ৭লাখ ২৫ হাজার(সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীগণ টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও দীর্ঘদিন যাবৎ কালক্ষেপণ করতে থাকে।
গত ২০আগস্ট-২০২৬ খ্রি.বিকাল প্রায় ৫ ঘটিকার সময় পৌর সদরের বকুলতলা মোড়ে বিবাদীগণকে দেখতে পেয়ে আমি তাদের নিকট ক্রয়কৃত ইট অথবা প্রদানকৃত ৭লাখ ২৫ হাজার (সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার)টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীগণ কোনো ইট বা টাকা ফেরত দেবে না মর্মে এককালীন অস্বীকার করে। বিবাদীগণ পরস্পর যোগসাজশে বাদীর নিকট হতে অগ্রিম-১লাখ ৫০হাজার (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার)টি ইট ক্রয়ের মূল্য বাবদ ৭লাখ ২৫ হাজার(সাত লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা গ্রহণ করে চুক্তি অনুযায়ী তাকে ইট সরবরাহ করেন নাই।
ঘটনার বিষয়ে জানতে “পদ্মা এন্টারপ্রাইজ” নামে ভাটা মালিকদের মধ্যে উত্তর মেন্দার আহাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন(ভেকু আলম)মোবাইল ফোনে গণমাধ্যম কর্মিদের জানান, “পদ্মা এন্টারপ্রাইজের” এমডি থাকার কারণে ভাঙ্গুড়া মসজিদ পাড়ার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে মাহাফুজুর রহমান হ্যালো গত ১০/১২ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছেন। এখন আমরা অন্যান্য পাটনার ব্যবসায়ী মালিক বিপদে পড়েছি।ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাকিউল আযম বলেন,প্রতারণার অভিযোগের থানায় ৪০৬/৪২০/৩৪ দন্ড ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভাঙ্গুড়া মসজিদ পাড়ার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে লিটন হোসেন(৪৬)কে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটক করার চেষ্টা চলছে।