
নিজস্ব প্রতিবেদক :
এক বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।উৎসবকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ। সলঙ্গা থানার ৬টি ইউনিয়নের ৩৪টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়, কোথাও চলছে তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ।আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গোৎসবকে বরণ করে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী,পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা।ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।এখন প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে নিপুণ হাতে রং ও তুলির শেষ ছোয়া দিচ্ছেন শিল্পীরা।মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ডেকোরেশন ও বর্ণিল সাজসজ্জার আয়োজন।উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ,করা হচ্ছে আলোকসজ্জা।সব মিলিয়ে দুর্গাদেবীকে বরণ করে নিতে সলঙ্গার পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।এদিকে,দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।সুষ্ঠ,শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সলঙ্গা থানা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারেও কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।সলঙ্গা থানা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী গজেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান,সলঙ্গায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্ন,শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে প্রশাসন,আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।আনসার- পুলিশের নিরাপত্তার পাশাপাশি স্ব স্ব মন্দিরে পৃথক পৃথক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীও গঠন করা হয়েছে।
সলঙ্গার ভুষাল হাটা পূজামণ্ডপের পুরোহিত জানান,এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন হবে নৌকায়। দেবীকে বরণ করে নিতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।দুর্গোৎসবকে ঘিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।প্রস্তুতির ব্যস্ততা শেষে এখন সবার প্রতীক্ষা ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি,উলুধ্বনি আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেয়ার পালা।
আনন্দ,সম্প্রীতি ও উৎসবের আবহে সলঙ্গার ৩৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
