ড্রেনের খোঁড়াখুঁড়িতে নাকাল উল্লাপাড়া, কবে শেষ হবে কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার কালিবাড়ি থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশে ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ দুই বছরের বেশি সময়েও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ খুঁড়ে রাখা, মাটি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজ শেষ করতে দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি নির্মাণকাজের সময় সড়ক সচল রাখার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

কালিবাড়ি থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত সড়কটি উল্লাপাড়া পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। এর মধ্যে থানা মোড় থেকে শ্যামলীপাড়া পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল। এ অংশের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য দোকানপাট, বাজার, মসজিদ ও মন্দির। উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ড্রেন নির্মাণের জন্য সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে। কোথাও সড়কের ওপর মাটি ও বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ইট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতে সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। পথচারীদেরও নির্মাণাধীন ড্রেনের পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে থানা মোড় থেকে শ্যামলীপাড়া অংশে দুর্ভোগ বেশি দেখা গেছে। সড়কের পাশে খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় দোকানের সামনে ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। যানবাহন একে অপরকে পাশ কাটিয়ে চলার সময় তৈরি হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, আব্দুল হাই, সোলেমান ও হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন নির্মাণের কাজ চললেও এখনো শেষ হচ্ছে না। সড়কের পাশে এভাবে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণাধীন ড্রেনে অসাবধানতায় পড়ে কেউ কেউ আহতও হয়েছেন।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “উন্নয়নের কাজ হবে, এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কাজ দ্রুত শেষ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের। অথচ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তেমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের কারণে সড়কের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পটি মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিবাড়ি থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালে। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে জয়পুরহাটের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও স্থানীয়ভাবে একজন সাবঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। মাঝখানে একবার কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সাবঠিকাদার শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কের পাশে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি, গ্যাসলাইন ও পানির লাইন থাকায় কাজ করতে বেশি সময় লাগছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার জানানোর পরও খুঁটি না সরানোয় কিছু অংশে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া পুরোনো ড্রেন ভেঙে নতুন ড্রেন নির্মাণ করায়ও সময় বেশি লাগছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ খুঁটি ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন থাকলে কাজ শুরুর আগেই সেগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি কেন। তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতা ও নির্মাণকাজের ধীরগতির দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা জামে মসজিদ পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

উল্লাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “এই কাজটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। তবে জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা সংশ্লিষ্টদের বারবার তাগাদা দিচ্ছি।”

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কাজ চলাকালে সড়কের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।