হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে শতাধিক দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ২ মাস আগে

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে তদারকির অভাব এবং অসাধু লাইনম্যানদের যোগসাজশে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সরকারি অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শতাধিক দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইন্টারচেঞ্জের চারটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি অধিগ্রহণকৃত জমিতে গড়ে ওঠা শতাধিক দোকান, হোটেল ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈধ বিদ্যুৎ মিটার ছাড়াই পাশের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের মিটার থেকে ‘সাইড কানেকশনের’ মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব দোকান গড়ে উঠেছে। তাদের প্রভাব এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু লাইনম্যান ও মিটার রিডারদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব সংযোগের কারণে যেকোনো সময় শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এসব অবৈধ সংযোগ চললেও পল্লি বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি ও অভিযান না থাকায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে ৩০টিরও বেশি দোকানে কোনো বৈধ বিদ্যুৎ মিটার নেই। দোকানগুলো আশপাশের বাড়ি থেকে তার টেনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ওই মহাসড়কের চায়ের দোকানদার মনি জানান, তিনি হাসান নামে এক ব্যক্তির বাড়ির মিটার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। দোকানে দুটি বৈদ্যুতিক বাতি ও একটি ছোট ফ্যান ব্যবহার করেন। এর জন্য তিনি প্রতি মাসে ৭০০ টাকা পরিশোধ করেন।

একই এলাকার আরেক দোকানদার কুরমান জানান, তিনি লিটন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির মিটার থেকে সংযোগ নিয়ে দোকান পরিচালনা করছেন।
তাদের মতো আরও অন্তত ৩০ জন দোকানদার একইভাবে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন।

এ ছাড়া ইন্টারচেঞ্জের পাবনা-নগরবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সম্প্রতি ১০টিরও বেশি নতুন দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানেও একইভাবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অবৈধ সংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা-বগুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। হাটিকুমরুল বাজার থেকে ধোপাকান্দি ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের জায়গা দখল করে প্রায় ১০০টি দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানেও বৈধ মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকানে রাধানগর মসজিদ এবং আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির মিটার থেকে সাইড কানেকশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক স্থানে খোলা তার ঝুলিয়ে সংযোগ দেওয়ায় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, অনেকে নিজেরা জায়গা দখলে নিয়ে দোকান করে ব্যবসা করছেন আবার কেউ কেউ দখল করে জায়গা ভাড়া দিয়েছেন। এছাড়া যেখান থেকে বিদ্যুৎ লাইন নেয়া হয় তাদেরকে প্রতিদিন ২০-৫০ টাকা করে দিতে হয়। এই টাকার ভাগ পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের অনেকেই পায়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহল, রাজনৈতিক নেতা এবং পল্লি বিদ্যুতের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অবৈধ দোকান ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই এভাবে অবৈধ সংযোগ চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হলে এত বিপুল সংখ্যক অবৈধ সংযোগ চালু রাখা সম্ভব হতো না।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন সলঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অফিস সময়ে এসে সরাসরি সাক্ষাৎ করলে এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।”

সিরাজগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুরুল কবির বলেন, “অবৈধ সংযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাব-জোনাল অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হবে।”

  • অনিয়ম
  • পল্লি বিদ্যুৎ
  • সলঙ্গা
  • সিরাজগঞ্জ