নাটোরের লালপুর উপজেলায় সাপের কামড়ে লতা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ের পর হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে গিয়ে সময়ক্ষেপণ করায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।বুধবার ২৯ জুলাই বিকেলে উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের বুধপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহিত লতা খাতুন বুধপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. সাইদুর রহমানের স্ত্রী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে নিজ বাড়ির খড়ের ঘরে কাজ করার সময় লতা খাতুনের ডান পায়ের বৃদ্ধাঙুলে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। এ সময় তার স্বামী বাড়িতে না থাকায় তিনি নিজেই কাপড় দিয়ে পা বেঁধে ক্ষতস্থানে চাপ প্রয়োগ করেন।পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে না নিয়ে ডাবেরপাড়া এলাকার এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে লতা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবহিত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে রোগীকে দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম প্রয়োগই জীবন রক্ষার একমাত্র কার্যকর উপায়।
