প্রতিনিধি,জয়পুরহাট :
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন,ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় অনিয়ম, বিধিবহির্ভূত নিয়োগে সহায়তা,দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের কক্ষে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্রামের ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষায় ছয়টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে পাঁচটির পাশবুক বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্যাশবুক, আয়-ব্যয়ের হিসাব, ডিপোজিট স্কিম ও এফডিআরের তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি হিসাবের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেওয়া হলেও ক্যাশবুক ও আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়নি। এতে হিসাববহির্ভূত অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সহায়তা, দায়িত্বভার গ্রহণসংক্রান্ত কাগজপত্র দিতে ব্যর্থতা, ব্যাংক হিসাবের অপারেটর পরিবর্তনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করা এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া, জাতীয় সংগীতের সময় অনুপস্থিত থাকা, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ঘুমানো এবং বিদ্যালয় চলাকালে বাজারে ঘোরাফেরা ও আড্ডা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি একটি কক্ষে বালিশ-কাঁথা রেখে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্রামের ব্যবস্থা করার অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমাব তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বিদ্যালয়ের কক্ষে বালিশ-কাঁথা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে তিনি বিশ্রাম নেন।
ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কুমার সাহা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
