ভাঙ্গুড়ায় কলাগাছে কৃষ্ণের হাত!

প্রকাশ: ২ দিন আগে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
​শিশিরভেজা স্নিগ্ধ ভোরের নরম আলোয় প্রকৃতি যখন ধীরে ধীরে তার ঘুম ভাঙায়, রূপসী বাংলা তখন রূপ নেয় এক অলৌকিক রূপকথার ক্যানভাসে।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নিঝুম পল্লী প্রান্তর করতকান্দির পথ ধরে প্রতিদিন ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় ভেসে বেড়ায় প্রাণচাঞ্চল্য-মিসমেথুইর ঘোষ বেলাই থেকে দাস বেলাই পর্যন্ত বিস্তৃত পথে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, তরুণ-তরুণী ও মধ্যবয়সী অজস্র মানুষের কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে ওঠে সকালের জগিং।
​পুব আকাশে সূর্যের উদীয়মান রক্তিম আভা তখনও পুরোপুরি মেলেনি।
এমন সময় আমজনতার দৃষ্টি থমকে গেল সুবল সরকার দাসের বাড়ির সামনের একটি সবরি কলাগাছে। মায়াবী সেই ভোরে চোখে পড়ল এক অনিন্দ্য দৃশ্য—গাছের চূড়া বা কান্ড ফেটে নয়, বরং কান্ড চিরে গাছের ঠিক মাঝামাঝি গায়ের সাথে এক অলৌকিক ভঙ্গিমায় বেরিয়ে এসেছে এক কলার কাঁদি!
​প্রকৃতির এমন বিস্ময়কর কারুকাজ দেখে মুগ্ধতায় থমকে দাঁড়াতে হয়। সাধারণ কোনো মোচা কিংবা প্রচলিত নিয়ম ছাড়াই কলার কাঁদিটি এমনভাবে পেঁচিয়ে বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন কোনো এক অদৃশ্য ভাস্কর আপন হাতে গড়েছেন কৃষ্ণবাহুর পবিত্র রূপ।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিস্তব্ধ করতকান্দি গ্রাম মেতে উঠল উৎসুক গুঞ্জনে।​তবে এই মায়াবী রূপের আড়ালে এখন দোলাচালে সুবল দাস ও তার পরিবার। নানাজনের নানামুখী মতে তাদের গৃহপ্রাঙ্গণে নেমে এসেছে গভীর দ্বিধা! গাছটি কি সযত্নে রেখে দেবেন, নাকি ধারালো দা দিয়ে গোড়া থেকে কেটে ফেলবেন? যদি অশুভের আশঙ্কায় কেটে ফেলা হয়, তবে কি অলৌকিক কোনো অভিশাপ এসে পড়বে সংসারে? আর যদি রেখেই দেওয়া হয়, তবে যদি হিতে বিপরীত হয়ে ডেকে আনে কোনো অজানা বিপদ—এই আশঙ্কায় সুবলের মনে জমেছে ঘোর সংশয়ের মেঘ।
​বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হয়তো এটি এক প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, কিন্তু ভোরের আলোছায়ায় মোড়ানো করতকান্দি গ্রামে এই রহস্যময় কলাগাছটি এখন ভালোবাসা, ভীতি আর এক গভীর কাব্যিক আকুলতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।