গাছ ৯০০, বরাদ্দ ১ লাখ ৮০ হাজার—রোপণের স্থানই জানেন না কর্মকর্তা

প্রতিনিধি, উল্লাপাড়া:
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তার তহবিল থেকে বাস্তবায়ন করা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা, স্কুল, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের কথা থাকলেও বাস্তবে নামমাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কিছু গাছ বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হক মিলন জানান, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দে ইউনিয়নে ৯০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। তবে কোন কোন রাস্তা বা প্রতিষ্ঠানে এসব গাছ লাগানো হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি। ফলে প্রকল্পের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার কাছেই যখন গাছ রোপণের স্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তখন ৯০০টি গাছ বাস্তবে লাগানো হয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য বাবু আকন্দ জানান, নয়টি ওয়ার্ডে ৯০০টি গাছ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক সদস্যকে ১০০টি করে গাছ দেওয়া হয়। তার দাবি, মেহগনি ১২০ টাকা, জাম ১১৮ টাকা ও পেয়ারা ১১৯ টাকা দরে কেনা হয়েছে। গাছের খুঁটির জন্যও অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

তবে স্থানীয় নার্সারি মালিকদের দাবি, এসব গাছের অনেকগুলোই বাজারে ৪৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এ হিসাবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ৯০০ গাছ—অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি গাছে ২০০ টাকা ব্যয়—কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সঠিক মুল্যে গাছ কেনা হলে একই বরাদ্দে আরও বেশি গাছ রোপণ করা সম্ভব হতো।

গাছের অতিরিক্ত দাম এবং কম সংখ্যক গাছ লাগানো এবং কোথায় গাছ লাগানো হয়েছে—এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হক মিলনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি। এমনকি আদৌ ৯০০টি গাছ লাগানো হয়েছে কি না এ প্রশ্নও এড়িয়ে যান তিনি।