সর্বশেষ

লালমোহনে প্রবাসীর সাড়ে ৫ কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

প্রতিনিধি, লালমোহন (ভোলা) :
ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ এলাকার মোহাম্মদ মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা প্রবাসী মো. মোশারেফ হোসেনের সাড়ে ৫ কোটি টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নিজের অর্থে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা বসির উল্লাহ, মা মনোয়ারা বেগম, দুই বোন সেলেনা ও মোরশেদা এবং দুই বোনজামাতা মাকসুদ ও সজিবের বিরুদ্ধে।মোশারেফ হোসেনের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি মা-বাবার নামে দেশে পাঠাতেন। তাঁদের বিশ্বাস করে পাঠানো সেই অর্থ দিয়ে সম্পদ গড়ে তুললেও বর্তমানে নিজের অর্থ ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি অসহায় জীবনযাপন করছেন। তাঁর দাবি, দুই বোন ও বোনজামাতাদের প্ররোচনায় মা-বাবা তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন।তিনি আরও জানান, বিয়ের জন্য শতাধিক পাত্রী দেখাসহ প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পরে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করলেও স্ত্রীকে নিয়ে নিজের বাড়িতে সংসার শুরু করতে পারেননি। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন বলে দাবি করেন এই প্রবাসী।মোশারেফ হোসেন বলেন, আমরা আট ভাইবোন। দুই বোন ও বোনজামাতাদের ষড়যন্ত্রে বাকি ছয় ভাইবোন অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি কখনো মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি। অথচ আমার দুই বোন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে এবং জেল খাটিয়েছে। আমি আমার ন্যায্য অধিকারটুকু চাই। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থেকে মা-বাবার নামে টাকা পাঠিয়ে যে সম্পদ গড়েছি, আজ সেই সম্পদ থেকেই আমি বঞ্চিত। আমার চাওয়া শুধু আমার ন্যায্য পাওনা, মা-বাবার ভালোবাসা আর স্ত্রীকে নিয়ে নিজের বাড়িতে শান্তিতে বসবাস করা। আমার মতো এমন কষ্ট আর কারও জীবনে না আসুক। আল্লাহ যেন কাউকে এমন মা-বাবা ও বোনের কষ্ট না দেন।মোশারেফের দাবি, তিনি মা-বাবাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে এনে তাঁদের দেখাশোনা করতে চান। স্ত্রী ও মা-বাবাকে নিয়ে সুখে সংসার করার পাশাপাশি নিজের অর্থে নির্মিত বাড়িতে ফিরে বসবাস করাই তাঁর প্রত্যাশা।
এদিকে আরেক বোন অভিযোগ করে বলেন, মা-বাবার ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর ৩০ বছরের সংসার ভেঙে যায়। তাঁর দাবি, স্বামী তাঁকে তালাক দেওয়ার পর মা-বাবার কাছে আশ্রয় চাইলে দুই বোনের কথায় তাঁকে আশ্রয় দেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা দরজা বন্ধ করে বাসার ভেতরে অবস্থান করেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।